কাসেমী ডুবাতে প্রস্তুত হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট দলের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি দলটি। ফলে এ আসনে বিএনপির কোন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে না। এই ঘোষণার ফলে এই আসনটিতে স্বতন্ত্র ও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম উঠে আসছে। বিশেষ করে কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলী, শিল্পপতি শাহ আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে কঠিন সমীকরণ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটের লড়াইয়ে জমিয়াতের প্রতিক খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে পরাস্তা করতে প্রধান হাতিয়ার হতে পারে এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিগত দিনের অভিজ্ঞতা ও ব্যাপক পরিচিতি। এছাড়া জমিয়তের মার্কা খেজুর গাছ হওয়ার তা ভোটারদের কাছে এখনো অনেকটা অপরিচিত। তাছাড়া মনির হোসেন কাসেমীও ভোটারদের কাছে সেভাবে পরিচিত মুখ হয়ে উঠতে পারেনি। যেসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের লড়াইয়ে কাসেমীকে পরাস্ত করতে অনেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না বলে তিনি জানান। এছাড়া জোটের প্রার্থীর আসনে বিএনপি দলীয় কেউ স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই নেতা।
এদিকে এই ঘোষণার পর থেকে জমিয়তের প্রার্থী কাসেমীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে ফুলের মালা পড়িয়ে ও বিশাল শোডাউন করে বরণ করে নেন। অন্যদিকে এই আসনে মোহাম্মদ আলী, শাহ আলম ও মশিউর রহমান রনি স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে শাহ আলম স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মোহাম্মদ আলীও স্বতন্ত্র হিসেবে এখনো সেভাবে কোন ঘোষণা দেননি। তবে এই নেতার স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জমিয়তের দলীয় প্রতিক খেজুর গাছের সামনে তিনি কাউকে চ্যালেঞ্জের উপযুক্ত মনে করেন না।
জানা গেছে, শিল্পপতি শাহ আলম ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অল্প ভোটে ব্যবধানে পরাজিত হন। তিনি ২০১৮ সালের দলের মনোনীত হয়েও জোটের প্রার্থীর কারণে প্রত্যাহার করতে হয়। তবে ২০১৯ সালে স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। মোহাম্মদ আলী ১৯৯৬ সালে বিএনপি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিএনপির রাজনীতিতে তাকে দেখা যায়নি। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। এছাড়া সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৩ এই দুটো আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। তিনিও কোন আসনে মনোনয়ন পাননি। তবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের চেয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনেক সম্ভবনা রয়েছে। কারণ এই আসন থেকে তিনি ২০০১ সালে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে এই নেতার প্রার্থী হওয়ার নানা গুঞ্জন উঠেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম বলেন, এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়ায় জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। ভোটাররা চাইলে আমি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবো।
সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহŸায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, মোহাম্মদ আলী বলেন, নির্বাচন করলে দেখতে পারবেন। আমি মাঠে আছি। আপনাদের জানাবো।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে মনোনয়ন কিনেছে। তবে ধানের শীষের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোন ইচ্ছা নেই। তবে আমার নেতা জনাব তারেক রহমান দেশে আসছেন। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
মতামত দিন