Box-4

নাটকীয়তার পর বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আবুল কালাম

নাটকীয়তার পর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি তিন বারের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে তাকে চ‚ড়াান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কে বলেন, দল থেকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি তাকে দেওয়া হয়েছে। এরপর দল থেকে তাদেরকে প্রতীক দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দল থেকে আমাকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি দলের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। 
দলের দুজন প্রার্থীর পর আপনার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল প্রাথমিকভাবে অনেকের নাম ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু দল থেকে চ‚ড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার বিষয়ে আগেই বলে দেয়া হয়েছিল। সেখানে চ‚ড়াান্ত প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কে প্রাথমিকভাবে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।
দলীয় ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি দলটি। এরপর থেকে ভোট চেয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন তিনি।
তবে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। প্রথম থেকে তারা সবাই মাসুদুজ্জামানের বিরোধীতা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে একাট্টা হয়ে এক টেবিলে বসেন এই চার জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে তারা সকলেই একসাথে বসে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রার্থীতা বাতিলের দাবি করেন। তাদের দাবি, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৃণম‚ল সহ অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে। এসব তৃণম‚লকে ম‚ল্যায়িত করা হয়নি। তাই এ মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তোলেন তারা। তাদের মধ্য থেকে যে কোন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা সবাই এক হয়ে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।’এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা বিভিন্ন সময় মাসুদুজ্জামানের বিরোধীতা করে নানা বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে এই ঘটনার কিছুদিন পর নাটকীয়ভাবে বলয় পরিবর্তন করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের পক্ষে কাজ শুরু করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ওই সময় তিনি মাসুদুজ্জামানের সভা-সমাবেশে ও নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ ঘটা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত বাকি তিন জনের বিরোধপ‚র্ণ বক্তব্য অব্যাহত ছিল।
এসব ঘটনার মধ্যে আকষ্মিকভাবে গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা ইস্যু ও পারিবারিক চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
তবে এই ঘটনার পর থেকে মাসুদুজ্জামান বলয়ের নেতাকর্মী, অনুসারী ও সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সিদ্ধান্ত বদলের দাবি জানিয়ে আসছিল। সর্বশেষ তিনি সিদ্ধান্ত বদল না করলে মাসুদুজ্জামানের বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর ফলশ্রæতিতে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সিদ্ধান্ত বদল করে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। 
এদিকে এই ঘটনার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অন্যদিকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ এই আসনে এখনো তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী বলে দাবি করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত কিছুদিন ধরে এই দুজন প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় একে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com