তুমুল বাকযুদ্ধের পর তিন প্রার্থী এক টেবিলে
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করে। এতে বিএনপির অনেকে তা মানতে নারাজ। ফলে এই আসনে বিএনপির অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি শাহ আলম। তার সাথে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর বাকযুদ্ধে রীতিমত টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী এখনো বাকযুদ্ধে না জড়ালেও তিনিও বেশ আট-ঘাট বেধে নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন।
শুক্রবার দুপুরে ফতুল্লা থানা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাগর সিদ্ধিকীর বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তারা তিন জন এক টেবিলে বসেন হাত মেলান। এ সময় তাদের বেশ হাস্যউজ্জল দেখা গেছে।
সম্প্রতি বিএনপির জোট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন কাসেমী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিকতা রক্ষার জন্য তারা এক টেবিলে হাস্যেউজ্জল অবস্থায় একে অপরের সাথে কথাবার্তা বলেছেন। তবে ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে ভোটের লড়াই বিদ্যমান রয়েছে। এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীদের বঞ্চিত করার ঘাঁ এখনো শুকায়নি। ফলে বাকযুদ্ধ ও লড়াই তাদের মধ্যে এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর ফতুল্লায় নির্বাচনী প্রচারণার এক সভায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি শাহ আলম জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে উদ্দেশ্য করে নানা বক্তব্য দিয়েছেন।
নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে সেদিন শাহ আলম বলেন, আমি নির্বাচন করবো। অনেক লোক অনেক বড় বড় কথা বলে, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে। আবার এমন কথা বলে সন্ত্রাসী কায়দায় ধমক দিয়ে কথা বলে। বিগত ১৮ বছর আমাকে দেখেছেন, আপনারা কেউ আমাকে ধমক দিয়ে কথা বলতে দেখেননি। ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে কথা বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাকে ভালোবাসেন দলকে ভালোবাসেন। দলের জন্যই আপনাদের দুঃখ কষ্ট, যে আপনাদের মূল্যায়ন হয়নি। আমি প্রথম দিন বলেছি, আমি ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করবো না। আজও বলছি ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করবো না। আমি আগেও বলেছিলাম ধানের শীষের পক্ষের ত্যাগী যে কাউকেই দেওয়া হোক, আমরা তার পক্ষে ও ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচন করবো।
নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি সহায় হোন এবং আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন- ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচন করবো।
একই (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, কেউ কেউ গতকাল বলতেছে, আমি তো বিএনপির বিরুদ্ধে নই। ধানের শীষের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছিনা। আমি দাঁড়াচ্ছি খেজুর গাছের বিরুদ্ধে। যদি বলতো আমি দাঁড়াচ্ছি বট গাছের বিরুদ্ধে তাহলে আরও বেশি খুঁশি হতাম। বাঁশ গাছের বিরুদ্ধে আরও বেশি খুশি হতাম। আরে ভাই আপনি এখানে খেজুর গাছ পাইলেন কোথায়? খেজুর গাছের রূপে প্রতিটি রন্ধে রন্ধে আপনি যদি ধানের শীষ দেখতে না পারেন আপনি জাতীয়তাবাদী দলের কেউ না। যারা জাতীয়তাবাদী দল করে যারা জিয়াউর রহমানকে আইডল মানে, যারা তার সন্তান তারেক রহমানকে আইডল মানে বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসে, তারা মার্কা হোক বা না হোক যদি দল কোন একটিকে বলে দেয় এই ছালাকে মানতে হবে এই ছালাই হলো ধানের শীষ। তাহলে সেই ছালা কে মানতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপির সাথে একাকার হয়ে আছি। বিএনপিও আমাদের উপরে আস্থা রেখেছে। আমি এমনি উড়ে এসে জুড়ে বসি নাই। আমি তারেক রহমানের হুকুমে আসছি। আমি কেন্দ্রের হুকুমে আসছি।
তবে এই দুই প্রার্থীর বাকযুদ্ধের মধ্যেও নিরবে রয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহŸায়ক পদে রয়েছেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ফের এই হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনিও আপাতত বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়নি।
মতামত দিন