জোটের প্রার্থীর পাশে ‘শামীম ওসমানের ছোট ভাই’ ও ‘বহিষ্কৃত নেতা’
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের টিকিট পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে তার পাশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত জমিয়ত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে দেখা গেছে। সম্প্রতি অনেকে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে নানা সমালোচনা করে আসছেন। একইসাথে মনির হোসাইন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক নেতাকে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনার সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি দল থেকে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এ সময় তার পাশে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, যাকে সবাই সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছোট ভাই হিসেবে চিনে। এছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক নেতাকে সেই অনুষ্ঠাতে তার পাশে দেখা গেছে।
জানা যায়, বিগত প্রায় ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সবসময় ওসমান পরিবারের সদস্যদের ছায়ায় থাকতেন। শামীম ওসমান তাকে ছোট ভাই হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই সাথে শামীম ওসমানের অনুসারীরাও তাকে সুনজরে রাখতেন। নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা বিপদে থাকলেও মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান থাকতেন নিরাপদে।
২০২১ সালের ২০ মার্চ আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান। এসময় তিনি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে তার ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো।
এরই মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে শামীম ওসমান সহ তার অনুসারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আর এই পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান শামীম ওসমানের সাথে সকল সম্পর্ক অস্বীকার করে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ¯েøাগান দিয়ে নিজের রঙ বদলানোর চেষ্টা করেন। নিজেকে ওসমান বিরোধী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি বিএনপি এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ার সরিয়ে দেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সেসময় তাকে শামীম ওসমানের ছোট ভাই ও আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার নামে বরাদ্দকৃত ওই চেয়ার সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।
এদিকে মনির হোসাইন কাসেমীর মঞ্চে বিএনপির এক বহিস্কৃত নেতাকে দেখা গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তাকে দল বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরুপ নেতাকেও তার পাশে সেখানে দেখা গেছে। এই অবস্থায় তাকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করার ফলে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারণ দল যাকে গ্রহণ করেনি, বহিষ্কার করে দলের বাইরে রেখেছে সেই নেতাকে নিয়ে কিভাবে বিএনপির থেকে জোটের প্রার্থী প্রচারণা চালায়? এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিতর্কিতদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলে ভোটারদের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে করে ভোটের মাঠে আরও পিছিয়ে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
মতামত দিন