Box-2

বিএনপিতে বিদ্রোহী, জামায়াতে-এনসিপিতে একক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে বিএনপি দলটি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে চারটি আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও একটি আসনে বিএনপি থেকে জোটের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় প্রত্যেকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক বা একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। এতে বিএনপির প্রার্থীদের ভোটের লড়াইয়ে সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলাম ও এনসিপি দলের জোট থেকে প্রত্যেক আসনে একক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ফলে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীদের শুধুমাত্র ভোট ব্যাংক নিয়ে হিসেব কষে মাঠ চড়ে বেড়াতে হবে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট ব্যাংক ম্যানেজ করার পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহীদের ঠেকাতেও লড়াই করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ফলে দলটির প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী মাঠের হিসেব নিকেশ বেশ কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 
এখানে উল্লেখ্য যে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল জাব্বার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে করে এই আসনে জামায়াত ও এনসিপি জোট থেকে মাত্র একজন প্রার্থী মাঠে রয়েছে। এছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এনসিপির প্রার্থী আহমেদুর রহমান তনু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে ওই আসনেও এই জোটের একজন করে প্রার্থী রয়েছে। 
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মোট ৯১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যার মধ্যে ৫৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আটজন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে দশজন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এগারোজন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পনেরোজন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১: এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভঁইয়া দিপু তার মনোনয়নপত্রটি জমা দিয়েছেন। আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম সিকদার। 
এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেনে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন। এছাড়া এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহŸায়ক কাজী মনিরুজ্জামান। ভেতরে ভেতরে এই নেতা ও তার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে বিএনপির প্রার্থীকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশাপাশি তার বিরোধী শিবিরের সাথে লড়াই করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ-২
এ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আসনটিতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। আঙ্গুর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ, কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আব্দুল আউয়াল ও স্বতন্ত্র মিনহাজুর রহমান।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর সাথে লড়াই করতে হবে। এছাড়া তার ভাতিজা মাহবুবুবর রহমান সুমনও প্রথম থেকে বিএনপি প্রার্থী আজাদের বিরোধীতা করে আসছিল। ফলে তিনিও ভেতরে ভেতরে বিএনপির এই প্রার্থীর বিরোধীতা করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জ-৩
এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান রোববার তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মসীহ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, খেলাফত মজলিশের মুহা. শাহজাহান, জনতার দলের আব্দুল করীম মুন্সী, গণসংহতি আন্দোলন প্রার্থী অঞ্জন দাস।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে ক্ষুব্ধ ছিল নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। নিজ দলের এরুপ ৭ জন তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে কেন্দ্রে চিঠি পাঠায়। এমনকি তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন। আর  সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী বেশ ফুরফুওে মেজাজে রয়েছে। 
নারায়ণগঞ্জ-৪
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক এমপি এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমাÐের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন, বাসদের সেলিম মাহমুদ, সিপিবি প্রার্থী ইকবাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন মুফতি ইসমাইল কাউসার, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভ‚ইয়া, খেলাফত মজলিস আনোয়ার হোসেন। 
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল জাব্বার তাদের জোট দল এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে এ আসন থেকে জামায়ত- এনসিপি জোটের প্রার্থী হিসেবে আল আমিন লড়বেন। তবে এনসিপির এই প্রার্থীর প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে বিএনপির দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন কাসেমীর বিদ্রোহী হিসেবে বিএনপি দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ফলে এই আসনে এনসিপির প্রার্থীর তুলনায় বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী কাসেমীকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে লড়াই করতে হবে। যদিও প্রথম থেকে সবাই মোহাম্মদ আলীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন উঠে। তবে শেষ সময়ে এসে তিনি দলীয় প্রতিকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫
ধানের শীষের প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র হয়েছেন মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল। এছাড়া রয়েছেন, গণসংহতি আন্দোলন প্রার্থী তরিকুল ইসলাম সুজন, সিপিবি প্রার্থী মন্টু ঘোষ, বাসদ প্রার্থী আবু নাঈম খান বিপ্লব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন।
এই আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আবুল কালাম। তবে স্বতন্ত্র হিসেবে মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া গলার কাটা হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে মো. মাকসুদ হোসেন। তিনি বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। ফলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে অন্য দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করতে হবে। অন্যদিকে জামায়াতের জোট দলের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন লড়াই করবেন।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com