Box-5

গিয়াসের অর্ধেক শাস্তি বাকি

নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই মিলছে বহিষ্কারের চিঠি। সেখানে তিনি দুই আসন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে লড়ছেন। ফলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার শাস্তি তিনি পেয়েছেন, এখনো আরও বাকি আছে। তাছাড়া বিগত সময়ে ‘‘বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই’’ ও ‘‘টাকার বিনিময়ে নমিনেশন কেনাবেচা হয়’’ বলে তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের খোরাকে পরিণত হয়েছেন। ফলে সেসব নেতাকর্মীরা এতোদিন ভেতরে ভেতরে তার বিরোধীতা করলেও তারা এখন প্রকাশ্যে তার বিরোধীতা করবেন। ফলে সেসব তিরষ্কার ও সমালোচনা তার জন্য বাকি শাস্তিস্বরুপ এখনো অপেক্ষা করছে। 

জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার কারণে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন কে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ- ৩ ও ৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে, গত ২৬ ফেব্রæয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা বিএনপির উদ্যেগে চাঁদপুর মোহনায় এক বনভোজনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে দলের নানা বিষয়ে সমালোচনা করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হলে চারদিকে তার বিরুদ্ধে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।
সেই অনুষ্ঠানে বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক দল বিএনপির কথা বলি। নিজ দলের কথা বলি। বিএনপির গঠনতন্ত্রে কী বলে? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই দল গঠিত ও পরিচালিত হবে। কিন্তু সেটা কী চলে? একদম স্পষ্ট না। যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের এই দল চলতো তাহলে নেতাকর্মীরা যারা হতাশা, দু:খ-বেদনা নিয়ে বক্তব্য দিলেন, তাদের এই দু:খ-দুর্দশা থাকতো না। কেনো থাকতো না। কারণ আপনার নেতা নির্বাচন করার ক্ষমতা যদি আপনার থাকতো, আপনার ভোটে যদি সর্বস্তরের নেতৃত্ব তৈরি হতো তাহলে আপনাকে মর্যাদা দিতে নেতা বাধ্য থাকতো। আপনাকে অবজ্ঞা করে কোন নেতা চলতে পারতো না। নেতার ইচ্ছামতোন দলকে পরিচালনা করতে পারতো না। নেতা ইচ্ছা করলেই লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে পারতো না। এই গণতন্ত্র নাই বলে আজ প্রকৃত নেতার কোনো ম‚ল্যায়ন নেই। প্রকৃত নেতা-নেত্রীদের ম‚ল্যায়ন নেই। এবং নেতা যারা হয় তারা হয়ে যায় শাসকের মতোন স্বৈরতান্ত্রিক । আমার ইচ্ছামতোন যা খুশি তা করবো, আমার তো জবাবদিহিতা করার কোনো জায়গা নাই। সেজন্য যা ইচ্ছা তা করে। দলের মধ্যে গণতন্ত্র থাকবে না। আর আমরা সারাদিন চিৎকার করবো- রাষ্ট্রে গণতন্ত্র চাই। তা চাইলেই কি হয়ে যাবে? এই চাওয়াটাও তো অন্যায়। নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্র নাই। আর রাষ্ট্রের কাছে গণতন্ত্র চাই। এটা কী হতে পারে? এটা তো হতে পারে না।”
 বিএনপি দলের হাইকমাÐের নানা কর্মকাÐের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “গঠনতন্ত্র তৈরি হয়েছে দল পরিচালনা করার জন্য। সেখানে লেখা হয়েছে, সর্বস্তরের কমিটি নির্বাচিত হতে হবে কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে। এই অধিকার আমাদের না দিয়ে অ্যাপয়েন্টেড নেতাকর্মী বানানো হয়। কেন্দ্র থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় যেনো চাকরি করি আমরা, গোলামি করি আমরা দাসত্ব করি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে ওই বাড়িতে ফুলের মালা, ফুলের তোড়া নিয়ে মানুষের ভিড় জমে যায়। সেই নেতা হোক সংগ্রামী, হোক সংগ্রাম করে নাই হোক সে অসৎ কিন্তু সে তো অ্যাপয়েন্টেড হয়েছে। একটা পদ পেয়েছে। সবাই ফুলের মালা তোড়া নিয়ে গেলে সে মনে করে তার কাছে গেলে সে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে পারে পদ পদবী পেতে পারে এই লালসায়। নির্লজ্জ-বেহায়ার মতোন অনেক সিনিয়রকে নেতৃবৃন্দকে জুনিয়রের কাছে ফুল দিতে হয়, জুনিয়রের কাছে গিয়ে তোষামদি করতে হয়। এই অবস্থা চলতে পারে না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে। এই অবস্থা চলতে পারে না।
টাকা দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মধ্যে কোটি কোটি টাকায় মনোনয়ন বিক্রি করা হয়। এ দেশ আমরা এই কারণেই স্বাধীন করেছি। এজন্য আমরা আন্দোলন করি সংগ্রাম করি, নিশ্চই না। ভালো মানুষের অভাব নাই বিএনপিতে। ভালো মানুষের অভাব নাই অন্য কোনো দলেও। কিন্তু ভালো মানুষগুলোর টাকা না থাকলে সমস্যা। সে নমিনেশন পাবে না। কারণ টাকার গাট্টি দিয়ে দিতে হবে। এমন রাজনীতি যদি দেশে থাকে তাহলে বাংলাদেশের আকাশে কখনো ভালো স‚র্য উদয় হবে না।
এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ বলেন, তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। এই বক্তব্যের জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাছাড় তিনি যে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের এসে ২০০১ সালে দলীয় নমিনেশন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তখন কি তিনি টাকা দিয়ে নমিনেশন পেয়েছেন?
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপন মামুন মাহমুদ বলেন, সেস্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও সবার দৃষ্টিতে এসেছে। তৃণম‚ল বিএনপির সকল নেতাকর্মীর মনে এ বিষয়টি আঘাত লেগেছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন ধরনের নির্দেশনা দেয়নি। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
সং¯িøষ্টরা বলছেন, এরুপ বিরুপ মন্তব্যের পরও দল থেকে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলের দলের নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তার বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। তবে এবার তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে ও বাকযুদ্ধে তাকে ভর্ৎসনা করা হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের গুরুতর অভিযোগ থ্কালে সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে। ফলে কার্যত অর্থে এসব দিক থেকে তার বিরুদ্ধে আরও শাস্তি অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com