নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানেরআয়ের পাশাপাশি বেড়েছে জমির পরিমাণও। গত সাত বছরে তিনি ৯৫৬ শতাংশ জমি কিনেছেন।আসন্ন ত্রয়োদশ ও গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনেমনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া এ সংসদ সদস্য প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়াগেছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আসনটিতে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীহয়েছিলেন।আজহারুল ইসলাম মান্নান পেশায় ব্যবসায়ী হলেও ২০১৮ সালে এ খাতে কোনোআয়ের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি। বাড়ি ও বাণিজিক জায়গার ভাড়া বাবদ তার বাৎসরিক আয়ছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩০ লাখ ১২হাজার ৫৭ টাকা।এদিকে, বর্তমানে তার ১২৫৯ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে; যার ম‚ল্য ৩ কোটি ১৮লাখ ১৫ হাজার ৭১০ টাকা উল্লেখ করেছেন তিনি। যদিও ২০১৮ সালে তার নামে ৩০৩ শতাংশ জমিছিল, যার ম‚ল্য ছিল ২ কোটি ৩ লাখ ৩২ হাজার ৩১১ টাকা।জমির পরিমাণ বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে তার। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ১০ কোটি ৬০লাখ ১৪ হাজার ২২২ টাকার সম্পদের মালিক। ২০১৮ সালে এ পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৬৪হাজার ৯৬৫ টাকা।তবে তার নামে কোনো ব্যাংক ঋণ বা দায় নেই। আগেও তার নামে কোনো দায়বা ঋণ ছিল না।অস্থাবর সম্পদমান্নানের নগদ ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪ টাকা, দু’টি ব্যাংক একাউন্টে ৫২ হাজার৬৮০ টাকা, ১ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৬০ টাকা ম‚ল্যের দু’টি গাড়ি রয়েছে।এছাড়া, উপহারে পাওয়া ৩০ ভরি স্বর্ণের ম‚ল্য তিনি অর্জনকালীন সময় হিসেবে ১০হাজার টাকা দেখিয়েছেন হলফনামায়।তার ৫০ হাজার টাকার আসবাসপত্র এবং ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার দু’টিআগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে।অর্জনকালীন সময়ে তার এসব অস্থাবর সম্পদের ম‚ল্য ১ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার৮৮৪ টাকা হলেও বর্তমানে তার বাজারম‚ল্য আনুমানিক ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৮২৬ টাকাউল্লেখ করেছেন তিনি।স্থাবর সম্পদস্থাবর সম্পদের তালিকায় ১২৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ অকৃষি জমি এবং একটি সাত তলাও একটি তিনতলা ভবন রয়েছে। জমির ম‚ল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭১০ টাকা এবং ভবনেরম‚ল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৮ টাকা উল্লেখ করেছেন তিনি।বিএনপির এই প্রার্থীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ অর্জনকালীন সময়ে ৮ কোটি ৯৮ লাখ৮২ হাজার ৩৩৮ টাকা হলেও বর্তমানে এর ম‚ল্য ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ১১ হাজার ৬৯০ টাকা উল্লেখকরেছেন তিনি।মামলাআজহারুল ইসলাম মান্নান সন্ত্রাস বিরোধী আইনে (তদন্তাধীন) একটি মামলাসহমোট ২৯টি মামলার কথা উল্লেখ করেন। যার মধ্যে ১৭ মামলায় খালাস, ৯টিতে অব্যাহতি, একটিপ্রত্যাহার এবং একটি স্থগিত করা হয়েছে।২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলারকরা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মতামত দিন