Box-4

তৈমূর কী বিএনপিতে ফিরতে পারবেন?

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার এখন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি একে একে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে বেশ গুঞ্জন উঠছে তৈমূর আলম খন্দকারের বাহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কি ফিরিয়ে আনা হবে। যদিও তিনি বর্তমানে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তবে সম্প্রতি এই নেতা বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে করে তার দলের ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামা-ঢোল বাঁজতে শুরু করলে বিএনপি বহিষ্কৃত নেতাদের একে একে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চেীধুরী, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সেন্টু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী মুরাদ, সদস্য সুলতান আহমেদ ভুঁইয়াকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে বিএনপি দলটির নেতাকর্মী ও তৈমুর আলম খন্দকার সমর্থকদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে- এবার তৈমূর আলম খন্দকারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে। 
দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, এক সময় রিকশা-ভ্যান চালকদের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। পরে ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ শীর্ষপদে একাধিকবার ছিলেন। বিএনপির চেয়ারর্পাসনের উপদেষ্টা পদের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সে সময় মজলুম জননেতা হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। শেষ মুহূর্তে দলের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে দেশব্যাপী তখন আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে লড়াই করে পরাজিত হয়েছেন। সেই নির্বাচনটি বিএনপি বর্জনের ঘোষণা দিলেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। ফলে ওই সময় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর দীর্ঘ দেড় বছর পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসে তিনি তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করে মহাসচিব পদ পেয়েছেন। 
এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশব্যাপী প্রার্থী দিয়েছেন তৃণমূল বিএনপি মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে পরাজিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচনে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে ৪৫ হাজার ৭৫ ভোট পেয়েছেন কেটলি প্রতীকের শাহজাহান ভূইয়া। সোনালী আশ প্রতীকে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৩ হাজার ১৯০ ভোট। 
নির্বাচনে আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, বিএনপি ও তৃণমূল বিএনপির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার সাথে হাটছে, তারা আমার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছে। আজকে রূপগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মী ধরপাকড় বন্ধ রয়েছে আমার জন্য। আমার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটা হয়েছে।
বিএনপি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমাকে যে যখন যেখানে প্রয়োজন মনে করবে আমি তার পাশে থাকবে। আমি নীতিগতভাবে ও রাজনীতিকভাবে বিএনপির জাতীয়তাবদী আদর্শে বিশ্বাস করি। অনেকে আমাকে বিএনপি নিয়ে প্রশ্ন করে- আমার রক্ত, মাংস, পরিবার, চৌদ্দ গুষ্ঠি বিএনপি। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমূল বিএনপি থেকে এখনো পদত্যাগ করেনি। তাছাড়া তৃণমূল বিএনপির মহাসচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি রয়েছেন। ফলে এই অবস্থায় তাকে বিএনপি দলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দলটি কি ভাবছে। তা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে। তাছাড়া বিএনপি দলটির দুঃসময়ে দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে দল খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে দেখবেনা। এছাড়া তার শূন্যস্থান পূরণ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com