Box-2

জোটের প্রার্থী কাসেমীর পাশে বহিষ্কৃত সেন্টু

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কৃত ও নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করা সেই মনিরুল আলম সেন্টুকে দেখা গেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় ফতুল্লা ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থীর পাশে বহিষ্কৃত এই নেতাকে দেখা যায়। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নানা মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

সেই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, “আমি ঘুরে ফিরে খেজুর গাছের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ধানের শীষ দেখতে পাই। তাহলেই বুঝি- আমি জাতীয়তাবাদী নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী। আর যদি খেজুর গাছের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ধানের শীষ দেখতে না পাই, তাহলে এখনও নিজেকে বিএনপির ভালো কর্মী বলতে পারি না।” 

এখানে মুফতি কাসেমী তার সেই বক্তব্যে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে দাবি করলেও তার পাশে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকে বসিয়ে রেখেছেন। এমনকি যিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে বিএনপির বিরোধীতা করেছেন এরুপ নেতা সেন্টুকে পাশে বসিয়ে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারণার অভিযোগ এনে তৎকালীন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে বহিস্কার করে বিএনপি দলটি। এরপর থেকে পথ আরো পরিষ্কার হয় সেন্টুর। এরপর থেকে নৌকার পক্ষের লোকজন তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন। 

সেন্টু বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ধীরে ধীরে আওয়ামীলীগে ঘেঁষতে থাকেন। এমপি শামীম ওসমানকে ‘পীর’ হিসেবেই আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখেন। শামীম ওসমান সংসদ সদস্য হবার পর থেকে সেন্টু তার অনুগত হয়ে যান। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও শামীম ওসমানের সকল নির্দেশনা পালন করতেন এই সেন্টু। সেন্টুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। এ ছাড়াও আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ রয়েছে সেন্টুর সাথে। 

পরে তিনি ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এর আগে ওসমান পরিবার ঘেষা হেফাজত নেতা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে এই জোট প্রার্থীর পাশে দেখা গেছে। এমনকি তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ পলাতক শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, সেলিম ওসমান সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশে প্রায় সময় এই মাওলানা ফেরদাউসুরকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com