তিন হেভিওয়েট ঠেকাতে কাসেমীর কপালে চিন্তার ভাঁজ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকা তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সহ ১০ জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। ফলে ভোটের লড়াইয়ে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে জোটের প্রার্থী কাসেমীকে। তাছাড়া এই তিনজন প্রার্থী ওই আসনে বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুর গাছ প্রতিক অনেক সাধারণ জনগণ চিনেনা। ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কাসেমীর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সদর উপজেলার সাত ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে সর্বোচ্চ ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল হোসেন সিরাজী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান।
তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ও গিয়াস উদ্দিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। গিয়াস উদ্দিনকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
আলীর মনোনয়নপত্রটি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেন। তার মালিকানার একটি শিল্প কারখানার গত নভেম্বরের গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে বিকেলে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলমকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম এই আসনে বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে গিয়াস উদ্দিন ২০০১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে নির্বাচন করে জয়ী হন গিয়াস উদ্দিন। সেই নির্বাচনে হেরে গিয়ে শামীম ওসমান তৎকালীন সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আর সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী ১৯৯৬ সালে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কবরীর সাথে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন শাহ আলম। ফলে তারা তিনজন ওই আসনে বেশ জনপ্রিয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলাম ও এনসিপি সহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সহ জোটের ভোটগুলো তার বাক্সে পড়বে। ফলে নির্বাচনের মাঠ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তার দলীয় মার্কা খেজুর গাছ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন। তিনি বেশ ঘটা করে প্রায় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে তার দলীয় মার্কার সাথে বিএনপি দলীয় মার্কাকে মেলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কারণ খেজুর গাছ মার্কাটি সাধারণ জনগণ চিনানা। যেকারণে মার্কা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি। তার উপরে বিএনপি দলের হেভিওয়েটদের নির্বাচনের মাঠে অংশগ্রহণ তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ফলে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এই প্রার্থীকে।
মতামত দিন