Box-2

ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো মাসুদুজ্জামানের ডিগবাজি

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি দলীয় প্রাথমিক পর্যায়ের মনোনয়ন পাওয়া শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ হঠাৎ করে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে নাটকীয়ভাবে ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি। এতে বেশ আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন তিনি। পরে একে একে আরও দুই দফায় মনোনয়ন পাল্টে চূড়ান্ত পর্যায়ের মনোনয়ন পেয়ে যান সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম। তবে প্রত্যেকবার তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের তার প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেছেন। এতে করে দলের নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। তবে সময়ের ব্যবধানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হলে আবুল কালামের পক্ষে সবাইকে কাজ করার আহŸান জানান এই নেতা। এতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন- দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন হলেও তিনি বারংবার তার উপরে নেতাকর্মীদের আস্থা রাখতে বলেছেন। অথচ সেই তিনি এখন সুর পাল্টেছেন। তিনি এবার আবুল কালামকে অভিভাবক সম্মোধন করে তার পক্ষে কাজ করার আহŸান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো এই নেতা বরাবরের মত নানা নাটকীয়তা তৈরি করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্ব›দ্ব তৈরি করেছেন। এবার তিনি রীতিমত ডিগাবজি দিয়ে বিরোধী বলয়ের নেতার পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
দলীয় ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি দলটি। এরপর থেকে ভোট চেয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন তিনি।
তবে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। প্রথম থেকে তারা সবাই মাসুদুজ্জামানের বিরোধীতা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে একাট্টা হয়ে এক টেবিলে বসেন এই চার জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে তারা সকলেই একসাথে বসে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রার্থীতা বাতিলের দাবি করেন। তাদের দাবি, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৃণম‚ল সহ অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে। এসব তৃণম‚লকে ম‚ল্যায়িত করা হয়নি। তাই এ মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তোলেন তারা। তাদের মধ্য থেকে যে কোন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা সবাই এক হয়ে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।’এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা বিভিন্ন সময় মাসুদুজ্জামানের বিরোধীতা করে নানা বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে এই ঘটনার কিছুদিন পর নাটকীয়ভাবে বলয় পরিবর্তন করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের পক্ষে কাজ শুরু করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ওই সময় তিনি মাসুদুজ্জামানের সভা-সমাবেশে ও নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ ঘটা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত বাকি তিন জনের বিরোধপ‚র্ণ বক্তব্য অব্যাহত ছিল।
এসব ঘটনার মধ্যে আকষ্মিকভাবে গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা ইস্যু ও পারিবারিক চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তবে এই ঘটনার কিছুদিন পর নাটকীয়ভাবে তার সিদ্ধান্ত বদল করে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। 
এদিকে এই ঘটনার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। 
অন্যদিকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ এই আসনে ওই সময় তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী বলে দাবি করেছেন। ওই সময় তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী দাবি করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বিষয়টিকে কোনো কোন্দল হিসেবে দেখছি না। হয়তো কোনো একটি ইস্যু তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে আমি এমন কোনো বার্তা পাইনি। আমি এখনো জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী এবং সেই হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছি।”
সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর দলীয় মনোনয়ন ফরমের কাগজ দেখিয়ে সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য আবুল কালাম নিজেকে চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দল থেকে আমাকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দল প্রাথমিকভাবে অনেকের নাম ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু চ‚ড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
তবে আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছে প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনয়ন পাওয়া দুজন প্রার্থী। এ বিষয়ে বিএনপির প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সকলেই আস্থা রাখুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। খুব দ্রæতই সব দ্বিধার সমাধান আসবে। ধানের শীসের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। 
অথচ নিজেকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দাবি করে আসা মাসুদুজ্জামান মাসুদ কোন মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। অন্যদিকে মনোনয়ন পত্র জমা ও বৈধতার যাচাই বাছাইয়ে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়ে যান আবুল কালাম। যদিও দ্বিতীয় দফায় বিএনপির প্রার্থী দাবি করা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে তা বাতিল করা হয়েছে। এদিকে আবুল কালাম বিএনপির প্রার্থী হলে তার পক্ষে এবার কাজ করার আহবান জানান সেই রং বদলানো মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
গত ৪ জানুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দল ঘোষণা করেছেন আমাদের অভিভাবক আমাদের মুরব্বি আবুল কালাম সাহেবকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবো। 
ফলে কার্যত অর্থে তিনি কখনো কখনো নানা সিদ্ধান্ত বদলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভ্রান্ত করেছেন। আবার অনেক নেতাকর্মীকে লজ্জায় ডুবিয়েছেন। তাছাড়া তিনি নিজেও মনোনয়ন পেয়েও হাত ছাড়া হওয়ার ফলে সেই লজ্জা ঢাকতে এখন নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। 
। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com