প্রধান খবর

সেন্টুকে বিএনপিতে ফেরাতে ব্যর্থ কাসেমী!

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু চেয়ারম্যানের বহিষ্কার প্রত্যাহার নিয়ে নাটকীয়তার পর তা বহাল রেখেছে দলটি। এদিকে নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনে বিএনপি দলীয় জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। ওই সময় তার বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হলে কাসেমী সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠে। তবে পরবর্তীতে ফের তার বহিষ্কার প্রত্যাহারের আদেশটি স্থগিত করা হলে সেন্টু চেয়ারম্যান বেকফুটে চলে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী। কারণ চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। এই নেতার বহিষ্কার প্রত্যাহার করে দলে ফেরাতে রীতিমত ব্যর্থ হয়েছেন কাসেমী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের পর কাসেমীর পাশে সেন্টু চেয়ারম্যানকে দেখা গেছে। ফলে কাসেমীর নির্বাচনী কাজে সেন্টু চেয়ারম্যানের অভাব ও প্রয়োজনীয়তা বেশ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছেন এই প্রার্থী। যেকারণে তাকে পাশে রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
একাধিক সূত্র বলছে, প্রথম থেকে এই আসনের ভোট ব্যাংক ও নেতাদের নিজ দলে ভেড়াতে নানা হিসেব নিকেশ করে বেশ কৌশলে হাত বাড়িয়েছেন বিএনপি বিভিন্ন নেতাদের দিকে। সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি কদর ছিল দুই নেতার। তার মধ্যে রয়েছে সেন্টু চেয়ারম্যানের। তবে শেষ পর্যন্ত তার বহিষ্কার প্রত্যাহার স্থগিত হলে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন এই প্রার্থীর লোকজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেন্টু চেয়ারম্যানকে কোন সুখবর দিয়ে তার দল ভারী করতে পারেনি কাসেমী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে মনিরুল আলম সেন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনার মাত্র একদিন পর ২ জানুয়ারি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার স্থগিত করা হয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল ভুলবশত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে থানা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন মনিরুল আলম সেন্টু। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে মনিরুল আলম সেন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচনে জয়ী হন। ২০২১ সালের নির্বাচনেও মনিরুল আলম সেন্টু নির্বাচিত হন। এভাবে চার বার নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে মনির হোসেন কাসেমীর প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে দুইজন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সহ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী রয়েছেন। ফলে নির্বাচনে জয়ী হতে কাসেমীর প্রয়োজন ভোট ব্যাংক। আর কুতুবপুর ইউনিয়নের চার বারের বিজয়ী চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর বিকল্প কেউ নেই। যেকারণে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নির্বাচনের মাঠে ফেরানোর কাসেমীর জন্য খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সফলতা দেখাতে পারেনি কাসেমী।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com