প্রধান খবর

স্বতন্ত্র কাঁটাতে বিএনপির অস্বস্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপি ও তাদের জোট দলের প্রার্থী সহ ৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে তারা সকলে বৈধতা পান। তবে প্রত্যেকটি আসনে থাকা স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। পরে আপিল করে একে একে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রায় সবাই ফিরে এসেছেন। এতে বিএনপি ও জোট দলের প্রার্থীদের জন্য জয়ের পথ আরও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জামায়াত জোট দল সহ বিভিন্ন রাজনীতিক দলের সাথে ভোটের মাঠে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এসব প্রার্থীরা রীতিমত বিএনপির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বাতিল হয়েছে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জনের মনোনয়নপত্র। পরে আপিল করে একে একে মনোনয়ন পত্র বৈধতা পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করীম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল। এছাড়া আগে থেকে নারায়ণগঞ্জ-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। ফলে সবকটি আসনেই স্বতন্ত্র কাটা রয়েছে।
বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) মুস্তাফিজুর রহমান ভ‚ঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী বিএনপি-জোটের প্রার্থী। 
এদিকে, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চার প্রভাবশালী নেতা- নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৩ আাসনে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মাদ আলী ও মো. শাহ আলম। তাদের মধ্যে শাহ আলম ছাড়া বাকি তিনজনই ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য।
এদের মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে থাকায় গিয়াস উদ্দিন এবং শাহ আলমকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারা দু‘জনই দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও শাহ আলম তিনজনই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তবে আঙ্গুর নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। চারজনের মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি ও জোটের ভোটের সমীকরণ হিসেবে ভোটগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থীতে ভাগ হয়ে যাবে। কারণ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ফলে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা। আবার এর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছে। 
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আতাউর রহমান আঙ্গুরের সাথে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কথা হয়েছে। ফলে এই নেতা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বেশ প্রবণতা রয়েছে। তাছাড়া এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনেক নেতাকর্মী ভেতরে ভেতরে বিএনপি দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে কাজ শুরু করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিপক্ষে রেজাউল করীম প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছে। ফলে এই আসনে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তার উপরে গিয়াস উদ্দিনও এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিপরীতের শাহ আলম, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী রয়েছে। তাদের ফলে এই আসনে অনেক আগে থেকেই মাঠ গরম হয়ে আছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালামের পথ অনেকটা সহজ ছিল। তবে সম্প্রতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন প্রার্থীতা ফিরে পেলে কালাম বলয়ে অস্বস্তি দেখা দেয়।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর আসটিও প্রায় ফাকা ছিল। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল প্রার্থীতা ফিরে পেলে ফাকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। ফলে প্রায় সবকটি আসনেই স্বতন্ত্র কাঁটাতে বিদ্ধ হচ্ছে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com