সুসময়ের মাছি আঙ্গুরে ভরসা নেই
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয় ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে। তার প্রতিদ্ব›দ্বী করে নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে না যেতে দলীয় হাইকমান্ড থেকে তার ডাক পড়েছিল। তবুও তাতে কর্ণপাত করেনি আঙ্গুর। অথচ বিএনপির দুঃসময়ে আড়াইহাজারের হাল ধরেছিল নজরুল ইসলাম আজাদ। দলের নেতাকর্মীদের নানা সংকটে ও আন্দোলন সংগ্রামে সবার আগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। অথচ সেসময় আন্দোলন সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকা আঙ্গুর এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আড়াইহাজারে বিএনপিকে ডুবাতে মাঠে নেমেছেন। এতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুসময়ের মাছি আঙ্গুর এবার বিএনপিকে ডুবানোর চেষ্টায় মেতে উঠেছেন।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর, দলের সহঅর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। আজাদ মনোনয়ন পাওয়ার পর অন্য দুই প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে গেলেও মাঠে থেকে যান আঙ্গুর। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড থেকে আঙ্গুরকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তিনি দলীয় হাইকমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
জানা গেছে, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, ১৯৯১ সালে, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিন মেয়াদে বিএনটির টিকিটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই সময়ে সেখানে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দেখা যায়নি। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ছিলেন বেকফুটে।
অন্যদিকে, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাÐে সক্রিয় থাকার কারণে নজরুল ইসলাম আজাদ এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করছেন। দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়েও মাঠে সক্রিয় থাকা, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিতি তাকে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেন এবং মনোনয়ন ঘোষণার পর ধারাবাহিকভাবে এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মস‚চি পালন করে যাচ্ছেন।
একাধিক সূত্র বলছে, দলীয় হাইকমাÐের আপত্তির কারণে সুমন ও পারভীন প্রকাশ্যে কাউকে সমর্থন দিচ্ছেন না। তবে শত প্রতিকুলতা সত্তে¡ও নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে গণজোয়ার দেখে আঙ্গুর, সুমন ও পারভীনের অনেক নেতাকর্মী ভেতরে ভেতরে আজাদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। আজাদের পক্ষে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছেন। যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে বিরোধী বলয়ের নেতাকর্মীদের। তাছাড়া দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া ও পরবর্তীতে দলীয় হাইকমাÐের ডাকে সাড়া দিয়ে সিদ্ধান্ত বদল না করায় আঙ্গুরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তাতে করে আঙ্গুরের সাথে থাকা নেতাকর্মীরা রীতিমত বিপাকে পড়বেন। সে বিষয়টি বুঝতে পেরে নেতাকর্মীদের বড় অংশ বলয় পরিবর্তন করেছেন।
স্থানীয় নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর লোকজন বিএনপিকে ডুবাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যেকারণে তারা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। অনেকে আবার কৌশল অবলম্বন করে গোপনে কাজ শুরু করেছেন। ফলে এই অংশটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে বাবু বাহিনীর অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা। সেই মিশনের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে কাজ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় টিকিট না পেয়ে খড়কুটা আঁকড়ে ধরে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে চাইছেন আঙ্গুর। যেকারণে তিনি অ্যান্টি বিএনপি বলয়কে কাজে লাগাতে চাইছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুসময়ের মাছি আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের উপর দলের নেতাকর্মীরা আর ভরসা করতে পারছেনা। দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তৃণমূলকে এতোদিন বিভ্রান্ত করেছেন। অবশেষে সেই সম্ভাবনা থেকে তিনি ছিটকে পড়েন। তবুও স্বতন্ত্র প্রার্থী এখনো তৃণমূল নিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে পরাস্ত করার মিশনে নেমেছেন এই আঙ্গুর।
মতামত দিন