প্রধান খবর

কাসেমী ডুবাতে স্বতন্ত্র জোট নাকি ভোট

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল। ফলে এই আসনে বিএনপির একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে হিসেবে বিএনপি দলটির ভোট চার ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। সে দিক বিবেচনা করে বেশ কয়েকজন প্রার্থীদের সমঝোতা করার প্রস্তুাব দিয়ে তাদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে চারদিকে চলছে নানা গুঞ্জন। অন্যদিকে সমঝোতা না হলে ভোটের হিসেব কষে জয়ের সমীকরণ ঠিক রাখতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
নির্দিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সমঝোতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দিয়ে তাদের সমর্থন দেওয়া সম্ভব হলে জয়ের হিসেব কষতে বেশ সুবিধা হবে। একারণে সেই পথ ধরে একজন প্রার্থী এগোচ্ছেন বলে একটি নির্দিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়টি অস্বীকার করে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। 
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান।
এদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ও গিয়াস উদ্দিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। আর গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলম নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। দলীয় আদেশ অমান্য করায় তাদের দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর মোহাম্মদ আলী বিএনপি দলের মনোনয়ন না পেয়ে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
এদিকে নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন রয়েছন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনীতিক দলের প্রার্থী রয়েছে। তবে বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থীর ভোট কাটতে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম, গিয়াস উদ্দিন সহ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী রয়েছেন। ফলে কাসেমীর পথ খুব একটা সহজ হবেনা তা স্বাভাবিকভাবে বুঝা যাচ্ছে। 
নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, এই আসনের দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে একটি দলের প্রার্থী তাকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুাব দিয়েছেন। তবে এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়া একটি দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। যদিও এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি নির্বাচনের মাঠে কোন প্রার্থী অপর প্রার্থীকে সমর্থন দেয় তাহলে ভোটের সমীকরণ পাল্টে যাবে। এদিক থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে শাহ আলম, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী রয়েছেন। তাদের ভোটের হিসেব নিকেশ করে নির্বাচনে জয়ের ছক কষতে হবে। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আগে এই আসনের নানা নাটকীয়তা দেখা দিতে পারে। কারণ এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি আছে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করার। তবে শেষতক কেউ যদি মাঠ ছাড়তে নারাজ হয় তাহলে ভোটের সমীকরণ নিয়ে লড়াই শুরু হবে। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com