হাতাপাখা মাইনাসে জোটের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা
জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়শা তৈরি হয়েছে। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে জোটের প্রার্থী নিশ্চিত রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী মো. শাহজাহান কে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করছেন। তবে এ বিষয়টি মানতে নারাজ এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়া। তিনি দাবি করছেন, এখনো এই আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রার্থীর নাম আরও দুই-একদিন পর ঘোষণা করা হবে। ফলে এ আসনে কে জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন তা নিয়ে ধোঁয়শা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যাচাই বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন: বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ্, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী। পরে আপিল করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জোট থেকে বের হয়ে গেছেন ইসলামী আন্দোলন। যদিও এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গোলাম মসীহকে জামায়াত দলীয় জোট থেকে প্রার্থী দেওয়ার জোর গুঞ্জন উঠে। তবে ইসলামী আন্দোলন দলটি জোট থেকে বের হয়ে গেলে ১০ দলীয় জোটে কে হবেন প্রার্থী এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনার মাত্র একদিনের ব্যবধানে দল দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহজাহান দাবি করেন তিনি জোটের প্রার্থীতা পেয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ফলে এ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী মো. শাহজাহান দেশকণ্ঠকে বলেন, ১০ দলীয় জোট থেকে আমাকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সারা দেশে সকল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলে সেখানে আমার নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রথম থেকে খুব আশাবাদী ছিলাম। জোটের সমঝোতার কারণে এই আসন থেকে আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। জোটের সমঝোতার হিসেবে এই আসনের জোটের অন্য দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করবেন।
তবে এ বিষয়টি মানতে নারাজ জামায়াতে ইসলামীর এই আসনের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়া। তিনি দেশকণ্ঠকে বলেন, ১০ দল থেকে এই আসনের কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। কেউ যদি প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে সে মিথ্যাচার করছে। আগামী দুই-এক দিনের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে, ওই সময় ১০ দল থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আগে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি এখনো নির্বাচনী মাঠে রয়েছি। আগামীকালও জনগণের কাছে যাবো। তাকে যদি দল থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয় তাহলে আমি কেন নির্বাচনের মাঠ চড়ে বেড়াচ্ছি।
এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার জেলার পাঁচটি আসনে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। জোটের পাঁচটি আসনের প্রার্থী তালিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফজত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন জোটের প্রার্থী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের শরীক দল এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জাব্বার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মাইনুদ্দিন। তবে এই আসনের ক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ আসনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মতামত দিন