প্রধান খবর

সেদিন যেভাবে হামলা চালায় শামীম ওসমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘঠিত দশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, ‘শামীম ওসমান অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন’। এই শামীম ওসমান তার বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে জুলাই বিপ্লবের সময়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে গুলি বর্ষণ করেছেন। এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর সে সময় শামীম ওসমানের হামলার বহরে অংশ নিয়েছিল ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে। এতে অনেকে হতাহত হয়েছে। তবে জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার লোকজন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই অস্ত্র ভান্ডারের খোঁজ মেলেনি। সেই অস্ত্র ভান্ডার এখন কার কাছে তা নিয়ে সর্বমহলে রয়েছে গুঞ্জন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর অগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করার একটি ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি স্থানের ভিডিও ওই সময় ছড়িয়ে পড়ে। 
একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, শামীম ওসমানের বাহিনীকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে শামীম ওসমানের শ্যালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক তানভীর আহমেদ টিটুকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। শামীম ওসমানের বেয়াই (ছেলের শ্বশুর) ফয়েজউদ্দিন লাভলু, লাভলুর ছেলে মিনহাজুল ইসলাম ভিকি, শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুচর ব্যবসায়ী অনুপ কুমার সাহা, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভ‚ঁইয়া সাজনুও ছিলেন। এছাড়া শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও তার ছেলে রিয়েন, ছাত্রলীগ নেতা বিন্দু, কাউসার আহমেদ গুলি চালিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধানও সহ শত শত নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে হামলা ও গুলি চালিয়েছেন।
ওই দিন রাইফেল ক্লাব ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে পিস্তল, শর্টগান, অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে রাস্তায় নামেন শামীম ওসমান। এসময় তার পাশে দেখা গেছে শ্যালক টিটু, ছেলে অয়ন, বেয়াই লাভলু ও তার ছেলে ভিকিকে। এসময় অস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণ করতে করতে ডিআইটি এলাকার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন তারা। আর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও আশেপাশের এলাকায় সশস্ত্র অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ঘনিষ্ঠ স‚ত্রে জানা গেছে, চাষাঢ়ায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাব শামীম ওসমানের দখলে ছিল। সেদিন রাইফেল ক্লাব থেকে বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। আর বাকি অস্ত্রগুলোর জোগান দেন শামীম ওসমানের শ্যালক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক তানভীর আহমেদ টিটু। তানভীর আহমেদ টিটু নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং অভিজাতদের ক্লাব নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সভাপতি পদে ছিলেন।
এই গুলি বর্ষণের ঘটনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনকারী রাসেল নামে এক যুবক ও শহরের নয়ামাটি এলাকায় বাড়ির ছাদে রিয়া গোপ নামে এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেরাডেশনের সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক ফারহানা মানিক মুনা। 
এছাড়া বিগত সময়ে ওসমান পরিবারের সদস্য সহ তার বাহিনীর কাছে ছিল লাইসেন্সকৃত অস্ত্র। জুলাই বিপ্লবের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও সেই অস্ত্র জমা দেননি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাংসদ শামীম ওসমানসহ তাঁরা তিনভাই অস্ত্রের লাইসেন্স নেন। শামীম ও সেলিম ওসমান পিস্তলের লাইসেন্স (সেলিম বিএনপি আমলে বন্দুকের লাইসেন্স নিয়েছিলেন) আর নাসিম নেন বন্দুকের। নাসিম ওসমান ২০১৪ সালে মারাযান। এখন তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি কার হেফাজতে তা জানা যায়নি। তাঁর ছেলে আজমিরী ওসমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। তিনি আলোচিত ত্বকী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন। আলোচিত-সমালোচিত ওসমান পরিবারের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠক্যাডারদের নামেও অস্ত্রের লাইসেন্স আছে। এর মধ্যে শামীম ওসমানের মামাশ্বশুর জালাল উদ্দিন আহাম্মদের দুটি শর্টগান ও পিস্তলের লাইসেন্স আছে। জালাল উদ্দিন আবার সাত খুনের প্রধান আসামি ন‚র হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শামীম ওসমানের আত্মীয় ফয়েজ উদ্দিন আহমদ লাভলু দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সের মালিক। এছাড়া ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ আছে এমন ব্যক্তিরাও অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা শাহ নিজাম, শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নিয়াজুল ইসলাম, আবদুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবু, ইব্রাহিম চেঙ্গিস, মো. শহীদুল্লাহ, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক অন্যতম।
এসব ঘটনার পর শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর লোকজন দেশ ছেড়ে ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে পালিয়ে গেলেও তাদের অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে শামীম ওসমান ও তার লোকজন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। নারায়ণগঞ্জে সংঘঠিত দশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। 
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও পরিকল্পিত ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হয়েছে।
মামলায় মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ওরফে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে শামীম ওসমান ও ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনের একটি অংশ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি বলেন, “১৯ জুলাই ২০২৪ শামীম ওসমান ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বলছেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না; সাহায্য চাইছে, আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হইছে। আমি কিন্তু অস্ত্র ছাড়া আর মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমারে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগাং রোড খালি করতাসি। আপনি একটু আপা..নেত্রীকে বলে দিয়েনে, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করে।”
“উনাদের এ কথোপকথন আমরা ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়েছি এবং ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দিয়েছি”, যোগ করেন প্রসিকিউটর।
তিনি আরও বলেন, “এখানে আমরা দেখিয়েছি, উনি (শামীম ওসমান) অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। নিজে বলেছেন, নেত্রী অর্থাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন রাগ না করে। তার অ্যাপ্রুভাল তিনি ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে নিয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সেতু মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।”
গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে। যেখানে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে তার বাড়ির ছাদে খেলা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জটি দাখিল করা হয়েছে। যেখানে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানও রয়েছে।”
২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্টের ঘটনায় ১০ জনকে হত্যা, অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুলি করে এবং পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল দেখে, প্রমাণ পর্যালোচনা করে সকল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করেন তিনি।
আসামিদের গ্রেপ্তার করে আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজির করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
প্রত্যেক আসামির ব্যাক্তিগত দায় তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারা যে অপরাধ করেছেন তার পাশাপাশি তাদের একটি পরিচয় তদন্তকারী সংস্থা আমাদের দিয়েছেন, সেটি আমরা ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়েছি। এই আসামিরা জুলাই অপরাধের বাইরেও কি কি করেছেন। সেখানে আমরা দেখিয়েছি, এই আসামিরা নারায়ণগঞ্জের ত্রাস ছিল। সেখানে তিনি নানা অপরাধ কর্মকন্ডের সাথে জড়িত ছিল। বহুল আলোচিত ত্বকী হত্যাকান্ডের সাথেও সম্পৃক্ত ছিল।”
শামীম ওসমান ও তার বাহিনীর এই সশস্ত্র হামলায় রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত রাইফেলস ক্লাবের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এইচএম তামিম।
তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার এসপি রাইফেলস ক্লাবের সভাপতি হয়ে থাকেন। তবে নারায়ণগঞ্জ একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে রাইফেলস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন শামীম ওসমানের একজন লোক। যিনি আন্দোলন চলাকালে রাইফেলস ক্লাবে জমাকৃত সকল অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার উপরে গুলি চালিয়েছেন। সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
মামলাটি ভিডিও-ভিত্তিক অভিযোগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে এবং স্থানীয় জুলাইযোদ্ধা, আন্দোলনকারী যাদের সম্পৃক্ত করে স্বাক্ষর দিয়েছে তাদের অভিযোগে আনা হয়েছে। পুরো ম্যাসাকারে চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড ও ফতুল্লার অংশের কোনো ভিডিও, ডকুমেন্টারিতে পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু বিষয় পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।”

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com