জোট প্রার্থী কাসেমীর ভরসা সেন্টু-রিয়াদ
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক) আসনে বিএনপি দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা করে আসছেন। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে দেখা গেছে। এছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়নে চার বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে তার নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। যদিও বহিষ্কারাদেশ থাকার কারণে প্রথম থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেনি। তবে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হলে তিনি দলের এই জোট প্রার্থীর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনের জনিপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই দুই নেতার উপর ভরসা করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করে জয়ের মালা গলায় পড়ার দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে এই আসনে সেভাবে কেউ চিনতো না। এমনকি তার দলের খেজুর গাছ প্রতিকও কেউ চিনেনা। ঠিক সেই সময়ে জোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে নামে রিয়াদ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। পরে তাদের সেই তালিকা বড় করেন মনিরুল আলম সেন্টু।
জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ফতুল্লা থানা বিএনপির শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী সহ তাদের অনুসারীরা প্রথম থেকে বিএনপির জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে আট-ঘাট বেধে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। পরে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হলে সেই তালিকায় যোগ হয় ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর নাম।
এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ে জনসভায় অংশগ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে খেজুর গাছ প্রতিকে ভোট দেওয়ার জন্য আহŸান জানান তারেক রহমান। এতে দলের নেতাকর্মীরা আরও উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বহিষ্কারের কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিল ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী। সে সময় তিনি বহষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে দলের জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে গেছেন। এতে ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। পরে নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা হলে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হলে তিনি পুরোদমে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেন।
অন্যদিকে চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুও একইভাবে দীর্ঘদিন বহিষ্কার হয়ে দলের রাজনীতির বাইরে ছিল। তবে পদ পদবী না থাকলেও দলীয় কার্যক্রমে বরাবরের মত তিনি ছিলেন সরব। দল তাকে মাইনাস করলেও তিনি দলকে স্মরণ করতে ভুলে যাননি- তার এক জলন্ত প্রমাণ হলো বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের আগেই তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় নামেন। পরে তার বহিষ্কার আদেশ প্রাত্যাহার হলে তিনি আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কুতুবপুর ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। ফলে এই আসনে জোট প্রার্থীর জন্য তিনি বড় একটি ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাছাড়া দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য রাজনীতিক ক্যারিয়ারেও তার রয়েছে পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য। একইভাবে রিয়াদ চৌধুরীরও রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। এছাড়া ফতুল্লা থানা বিএনপির বড় অংশ ও অনুসারীরা তার পক্ষ নিয়ে বরাবারের মত কাজ করে আসছেন। যেকারণে আসনে তিনিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বটে। যার ফলে নির্বাচনের জয়ের সমীকরণ তৈরি করতে এই নেতাদের উপর প্রার্থী কাসেমী সম্পূর্ণ ভরসা করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন