বিএনপি নেতার পরিচয়ে কারখানায় হামলা ও লুটপাট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপি নেতার পরিচয়ে চাঁদা দাবির পর একটি কারখানায় লুটপাট ও কর্মীদের কুপিয়ে যখম করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পুলিশ পাহাড়ায় সীমিত পরিসরে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও ‘বি.এল.ও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বুধবার কারখানার মালিক মোনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যান্য আসামিদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, তাঁদের ভাইয়ের ছেলে নিশাত আকন, স্থানীয়ভাবে মাহ্ফুজুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপিকর্মী মো. সাদিকুল, মো. ফাহিমের নাম রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে কারখানা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে গত মঙ্গলবার বেলায়েত আকনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দলবলসহ কারখানায় হামলা চালায়। এসময় তারা কারখনার ম্যানেজারসহ কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করে নগদ টাকাসহ অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বিএনপি সহসভাপতি বেলায়েত আকন ও নিশাদ আকন মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে দফায় দফায় চাঁদা দাবি করেছেন। বিষয়টি তিনি অন্তত চার দফায় মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন। মাহফুজ এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো 'চাঁদাবাজ'দের সঙ্গে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মনোয়ার হোসেনের দাবি, মাহফুজুর রহমান নিজে ঘটনার সময় হাজির না হলেও তাঁর নির্দেশেই কারখানায় হামলা ও লুটপাট হয়েছে। মামলা করার সময় হুকুমের আসামি হিসেবে এজাহারে তিনি মাহফুজুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ মাহফুজুরের নাম বাদ না দিলে মামলা নেয়া হবে না বলে জানায়। পরে মাহফুজুরের নাম বাদ দিয়েই মামলা নেয়া হয়।
সরেজমিনে কারখানাটিতে গিয়ে হামলা ও লুটপাটের চিহ্ন দেখা গেছে। কারখানায় অপরিচিত লোক দেখতেই কর্মরত শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। এসময় কারখানার সামনে পুলিশ সদস্যদের পাহাড়া দিতে দেখা যায়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ এগিয়ে এসে কথা বলেন। তিনি কারখানার ভেতরে বাহিরে লুটপাটের চিহ্ন দেখান।
অলিউল্লাহ বলেন, হামলার পর দুইদিন কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাহাড়ায় সীমিত পরিসরে কারখানার উৎপাদন চলছে। আগে যেখানে ৪০ জন শ্রমিক রাত দিন কাজ করতো, বর্তমানে সেখানে ১৫ জন শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছে। কারখানা এলাকার বাইরে শ্রমিকদের পেলে হামলাকারীরা এখনও তাঁদের হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন দেশকণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কেউ আটক নেই। বিষয়টি শিল্পপুলিশ তদন্ত করছে।
মতামত দিন