প্রধান খবর

ইরানে হামলায় মুসলিমরা চুপ কেন?

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় দেশটি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সহ বেশ কিছু নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে হতাহত হয়েছে। এতে পাল্টা হামলা চালিয়ে শত্রæপক্ষকে নাস্তানাবোধ করছে ইরান। অন্যদিকে ইরানের অতর্কিত হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পাকিস্থান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। তবে শক্তিশালী পরাশক্তি দেশ আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি কোন মুসলিম দেশ প্রতিবাদ জানায়নি। এতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত একেবারে নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জে থাকা ইসলামি দলগুলো। তবে নারায়ণগঞ্জে একটি সংগঠন ইতোমধ্যে এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে- বিশ্বের নানা ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও ইসলামিক সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকলেও অদৃশ্য কারণে ইরান ইস্যুতে চুপ রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরাশক্তি আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ফলে এটা একটা কারণ। এছাড়া সৌদি আরব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা করার জন্য জোর দিয়ে আসছিল, যা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া সৌদি আরব সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে আমেরিকার ঘাটি রয়েছে। এসব ঘাটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে যেসব ইসলামিক ও রাজনৈতিক দলের সাথে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক রয়েছে তা এ বিষয়ে চুপ রয়েছেন। 
যদিও ফিলিস্তিতি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামলার প্রতিবাদে প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনগুলোকে বেশ আন্দোলনে ফুঁসে উঠতে দেখা গেছে বিগত সময়ে। তবে এবার দেখা গেছে প্রায় ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
এদিক থেকে অবশ্য বাম রাজনীতিক একটি সংগঠন বেশ এগিয়ে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে ৩ মার্চ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ইরানের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। 
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানা মাধ্যমে জানা গেছে, ইরান দেশটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের রাষ্ট। যেকারণে সুন্নি মুসলমানের অনেকে তাদের সমর্থন দিচ্ছেনা। এ নিয়ে নানা মতবাদও রয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি হারুন অর রশিদ দেশকণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আগামী দুই-একদিনের মত এ ঘটনা রাজপথে নেমে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হবে। আমি মনে করি, মুসলিম হিসেবে আমাদের সকলের এর প্রতিবাদ জানানো উচিত।
ইরান দেশটি শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম হওয়ায় অনেকে মধ্যে এক ধরনের অনিহা দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিয়ারা মুসলিম। তাদেরকে মুসলামানের কাতার থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শিয়াদের মধ্যে একটি গ্রæপ সম্পূর্ণ কাফেরি আকিদা পোষণ করে। এছাড়া বাকি শিয়া গ্রæপগুলোর মধ্যে আকিদাগত কিছুটা ত্রæটি রয়েছে। তবে এসব কারণে বাকি শিয়া গ্রæপগুলোকে মুসলমান থেকে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং মুসলিম হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো উচিত। 
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল বরাবার মুসলিম নিধন করে আসছে। একদিকে ফিলিস্তিতি মুসলিমদের ইসরাইল ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে আমেরিকা হামলা চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এসেছে। ইরাক ও আফগানিস্তান সহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ আমেরিকা ধ্বংস করে দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ জানানো উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ ইরানের বিরোধীতা করে আসছে। আর মুসলিম বিশ্বের মোড়ল দেশগুলোর অনুসারী রাষ্ট্র ও সংগঠনগুলোও সেই পথ অনুসরণ করছে। তবে এভাবে মুসলিমদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি চলতে থাকলে তারা ক্রমশ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে জুলুমবাজরা সেই সুবিধা লুফে নিবে।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com