টিপুর দুর্গে সাখাওয়াতের হানা!
একই দলের দুই নেতা। একই মঞ্চে বক্তৃতা দেন, একই পতাকার নিচে মিছিলে হাঁটেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে মিলটুকু ওইটুকুতেই শেষ। পর্দার আড়ালে সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দ্ব›দ্ব নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। এটি এখন সবার মুখে মুখে ফেরা এক চলমান উপাখ্যান।
সংসদ সদস্য পদ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের চেয়ার পর্যন্ত, প্রতিটি গুরুত্বপ‚র্ণ পদেই এই দুজন সরাসরি মুখোমুখি হয়েছেন। আর প্রতিবারই ফলাফল একই। টিপুকে মাঠ ছেড়ে পিছু হটতে হয়েছে, আর সাখাওয়াত এগিয়ে গেছেন নির্বিকারভাবে।
সাখাওয়াত যখন নাসিকের প্রশাসকের পদ পেলেন, টিপু তখন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ধার না ধেরে সোজাসাপটা অসন্তোষ জানালেন। কিছুদিন পর অবশ্য বাহ্যত মিলেমিশে চলতে দেখা গেল দুজনকে। কিন্তু ভেতরের হিসাব-নিকাশ থামেনি, বরং আরো গভীরে শিকড় গেড়েছে।
নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে টিপু তখন ভিন্ন কৌশলে মাঠে ছিলেন। হকারদের নিজের বলয়ে আনার চেষ্টা শুরু করলেন, ছোট ভাই হকারদের সভাপতির। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের ম‚ল নিয়ন্ত্রণ সাখাওয়াতের মুঠোয় থাকায় সেখানেও পুরোপুরি নিজের ছাপ রাখা সম্ভব হলো না। প্রতিটি পদক্ষেপে সাখাওয়াতের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার দেয়ালে ধাক্কা খেতে হলো তাকে।
এছাড়া টিপুর দুর্গ ছিল ট্যাক্সি স্ট্যান্ড যার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি । ট্যাক্সি স্ট্যান্ডার জায়গার জন্য সিটি কর্পোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ডের গঞ্জে আলী খালকে বেছে নিলেন তিনি। ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রধান উপদেষ্টার পরিচয় সামনে রেখে সেখানে দাপটের সাথে সাইনবোর্ড লাগালেন অ্যাডভোকেট টিপু। স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা বরাদ্দের পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করলেন। খালটি বালু দিয়ে ভরাটের উদ্যোগও নেওয়া হলো সরেজমিনে। কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসতে দেরি হলো না। খবর বেরিয়ে যেতেই সাময়িকভাবে পিছু হটতে হলো তাকে। তবে সাইনবোর্ড সরানো হলো না, যথাস্থানেই ঝুলতে থাকল। দখলের নীলনকশা বহাল রইল, শুধু মাঠের কাজটুকু থামল সাময়িক।
কিন্তু সেই সুযোগও শেষ পর্যন্ত আর হাতে রইল না।
গত ১০ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সরাসরি মাঠে নেমে গঞ্জে আলী খালটি দখলমুক্ত করলেন এবং খনন কাজ শুরু করে দিলেন। কোনো নোটিশ নেই, কোনো দীর্ঘ আলোচনা নেই। শুধু সরাসরি পদক্ষেপ। এক ধাক্কায় টিপুর সযতেœ গড়া শেষ ঘাঁটিটিও মাটিতে মিশে গেল।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটা নিছক একটি খাল উদ্ধার বা পরিবেশ রক্ষার অভিযান নয়। এটা একটি সুচিন্তিত বার্তা, যেটা পরিষ্কার ভাষায় বলছে, নারায়ণগঞ্জে কার হাতে কতটুকু ক্ষমতা। আর সেই বার্তাটি গঞ্জে আলী খালের দখল সরানোর মতোই জোরালো এবং নিখুঁত।
মতামত দিন