জোট ভাঙনে ভোট ভাগাভাগিতে অস্বস্তি
জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে ইসলামী আন্দোলন। দলটি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সহ সমমনা দলগুলোকে নিয়ে সারা দেশে ২৫৩টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে এই ঘোষণার মাত্র একদিন পর ইসলামী আন্দোলন জোট না থাকার ঘোষণা দিলে প্রার্থী তালিকা সহ ভোটের সমীকরণ বদলে যায়। সে হিসেব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় সবকটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত জোটের মধ্যে তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামের ও দুটি আসনে এনসিপি ও খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী রয়েছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের ভাঙনে ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। এতে জামায়াত জোট সহ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আরও একধাপ কমে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন সহ ১১ দলীয় জোট নিয়ে নির্বাচন করার কথা ছিল। তবে আসন ভাগাভাগি সহ নানা কারণে সেই জোট ভেঙে যায়। সম্প্রতি ২৫৩টি আসনে জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন। ফলে জোটের ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট থেকে ২৫৩টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। বাকি ৪৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩০টি আসন। এছাড়া অন্যান্য শরিকের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি এবং নেজামে ইসলামী পার্টি ২টি আসন পেয়েছে।
এই ঘটনার মাত্র একদিন পর ১৬ জানুয়ারী জাময়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোটে থাকছেনা বলে জানিয়ে দিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে, সেই সব আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে তারা। বাকি ৩২ আসনেও আদর্শিক বিবেচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেবে জানানো হয়েছে।
সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা হলেন: নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মো. ইমদাদুল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে গোলাম মসীহ্, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি ইসমাইল কাউসার ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
নারায়ণগঞ্জে জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জোটের শরীক দল খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের শরীক দল এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এছাড়া বাকি তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী দলের প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন- নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মো. ইলিয়াস মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-১ আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ দেশকণ্ঠকে বলেন, আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এ জেলার পাঁচটি আসনে আমাদের একজন করে প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া সারা দেশে বাকি আসনগুলোতে যেখানে আমাদের দলের প্রার্থী নেই, সেখানে নীতি আদর্শের দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে।
জোটে না থাকার ফলে ভোট ভাগ হয়ে যাবে এবং কোন প্রভাব পড়বে কিনা এ বিষয়টা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জোটে না থাকার ফলে আমাদের কোন প্রভাব পড়বেনা। কারণ আমাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। সে হিসেবে আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জোটের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন দেশকণ্ঠকে বলেন, ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করার যে ঘোষণা দিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত থেকে এখনো সরে আসার সুযোগ রয়েছে। ফলে আমরা আশা করি ইসলামী আন্দোলন তাদের সিদ্ধান্ত বদল করবে। সেই পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।
ভোটে প্রভাব পরার বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলে অবশ্যই জোটের প্রার্থীদের ভোটের মাঠে প্রভাব পড়বে। কারণ ইসলামী আন্দোলনের ভোট ব্যাংক রয়েছে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে জোটের প্রার্থীরা ভোটের দিক থেকে অনেক স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন সহ সমমনা দলগুলো এক বাক্সে নির্বাচন করার মূল লক্ষ্য ছিল দলগুলো ভোট একত্রিত করা। কিন্তু জোটে ভাঙনের মধ্য দিয়ে সেই ভোট কার্যত অর্থে ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে। আর সেই ভোট ভাগাভাগির মাসুল গুণতে হতে পারে জোটের ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের। তবে বিভিন্ন আসন ভেদে সেই ভোটের সমীকারণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যদিও অধিকাংশ আসনে ভোট ভাগাভাগির ফলে জোটের ১১ দলীয় প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ নিয়ে রীতিমত ভোটের মাঠে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। আর তাতে জোটের প্রতিদ্ব›দ্বী দল ও প্রার্থীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
মতামত দিন