আমি শুধু ধমক দিয়েছি, মারধরের অভিযোগ মিথ্যা: টিপু
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার সরানোকে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডার জেরে এক নারী আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ওই নারী আইনজীবী আমার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করে তাকে ধমক দিয়েছি, কিন্তু তাকে মারধর করার অভিযোগ মিথ্যা। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ভিডিওটি আংশিক, সম্পূর্ণ ভিডিও দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে ওই নারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ।
এদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাডভোকেট টিপু ও আইনজীবী আমেনা আক্তার শিল্পীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, বার ভবনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দুই অসহায় নারী নিজেদের বাসা থেকে খাবার তৈরি করে আইনজীবীদের কাছে বিক্রি করতেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তাদের সেখানে দেখা যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সিনিয়র আইনজীবী রফিক হোসেন উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীর কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী ওই নারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পরে অ্যাডভোকেট রফিক হোসেন বিষয়টি নিয়ে শিল্পীর কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। কিছুক্ষণ পর আমি সেখানে গেলে শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আমি শুধু তাকে ধমক দিয়েছি। তাকে কোন মারধর করিনি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে যেন পুরো ঘটনার জন্য আমিই দায়ী।
টিপুর দাবি, ভিডিওতে আংশিক ঘটনা দেখানো হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এদিকে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক হোসেনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আইনজীবী রফিক আহমেদ বলেন, আইনজীবী সমিতির সামনে বিভিন্ন হকারের দোকান বসে ও মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখা হয়। এর মধ্যে দুজন হতদরিদ্র হকারকে তারা সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ বিষয়টি জানতে চাইলে ওই নারী আইনজীবী বিএনপি নেতা টিপুকে অকথ্য ভাষায় বাবা-মা কে জড়িয়ে গালিগালাজ করেছে এবং দুর্ব্যবহার করেছে। সেই সাথে আমাকেও গালিগালাজ করেছে ওই নারী আইনজীবী। অথচ আমি তার অনেক সিনিয়র। এ ঘটনায় আমি আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার সরানোকে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডার জেরে এক নারী আইনজীবীকে মারধর ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী।
মতামত দিন