প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ঝুট নামাতে গিয়ে তোপের মুখে যুবদল, ওয়েস্টেজসহ আটক ট্রাক
স্টাফ রিপোর্টার
শিল্প
প্রতিষ্ঠাননির্ভর ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বিসিকে সুমন নিটিং নামের একটি কারখানার
ওয়েস্টেজ মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে এক ট্রাক ওয়েস্টেজ মালামাল আটক করে থানায়
নিয়ে যায়।
দলীয় শীর্ষ
পর্যায়ের নির্দেশ ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে ওই কারখানার ওয়েস্টেজ
মালামাল নামাতে গিয়ে যুবদলের একটি গ্রুপ স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের নেতাকর্মীদের
তোপের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে)
দুপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিক এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই বিসিক এলাকার সুমন নিটিং নামের একটি কারখানার ওয়েস্টেজ
মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনির অনুসারীদের সঙ্গে কৃষক
দল নেতা সুমন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব
চলছিল। বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ফতুল্লা থানা পুলিশ এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন
মাহমুদের হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সাময়িকভাবে ঝুট নামানো বন্ধ রাখার
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে,
সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব
মশিউর রহমান রনি গ্রুপের কর্মী সালাম ও ছাত্রদলের হৃদয় মাদবরের নেতৃত্বে একটি
গ্রুপ গোপনে ওই কারখানা থেকে ওয়েস্টেজ মালামাল নামানোর চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে
উপস্থিত ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম
ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়েস্টেজ মালামালবোঝাই একটি ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া
উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিলে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব
হয়।
এ বিষয়ে জানতে
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা
হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও বিসিকের ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা
বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বলেন, আগের ঝামেলার সময় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে
আমরা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ঝুট নামানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। তবে আজকের ঘটনা
সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত নই। শুনেছি সেখানে ঝামেলা হয়েছে। এটি মূলত ব্যবসায়িক
বিষয়, দলের কোনো বিষয় নয়। দল অনেক বড় বিষয়।
মতামত দিন