প্রধান খবর

জামায়াত বিদ্রোহীতে বেকায়দায় মান্নান

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী সহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী বদলে ভোটের মাঠের সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে। সেই সাথে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সরব রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তবে ১০ দলীয় জোট থেকে প্রথম দিকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শাহজাহান শিবলীকে দেওয়া হলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিল বিএনপি দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তবে শেষ পর্যায়ে এসে জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভ‚ঁইয়াকে দেওয়া হয়। এতেই পাল্টে যায় ভোটের সমীকরণ। ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী মান্নান বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোট সমীকরণের হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সহ বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এতে মান্নান বলয়ে চিন্তার ভাজ পড়েছে।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী সহ ১০ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) শাহজাহান শিবলীকে সমর্থন দিলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইকবাল হোসেন। বোনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সময়মতো জেলা নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু অনেক নাটকীয়তা শেষে তিনি ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। 
এদিকে সম্প্রতি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দাড়িপাল্লার প্রতিকের প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভ‚ইয়া। তিনি বলেন, জোটের প্রার্থী (রিকশা প্রতীক-খেলাফত মজলিস) প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করবেন। পরে আমারাও করব এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে প্রচারণায় নামব।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ শুরু করব।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন ও যুব শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদ। তিনি সোনারগাঁওয়ে জোটের সমর্থকদের নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মিছিল করেন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শিবলী নির্বাচনী মাঠে থাকবেনা। খুব শিঘ্রই জোট থেকে এ বিষয়ে আরেকটি সিদ্ধান্ত আসবে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোট প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের ইকবালকে দেওয়া হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী বলা হচ্ছে। 
অন্যদিকে জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এই আসনের দুজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন-মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, রেজাউল করিম। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার ফলে তাদের দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। তবুও তারা থেমে নেই। নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে। 
স্থানীয় সূত্র বলছে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ধানের শীষের ভোট কাটবে। তবে সে ধাক্কা সামলে নেওয়ার মত নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী মান্নান। তবে এবার সেই ধাক্কা আরো প্রবল হয়েছে ১০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নাম ঘোষণার পর থেকে। কারণ জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শাহজাহান শিবলীর তুলনায় অনেকগুণ বেশি হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লার প্রার্থী ইকবাল ভূইয়া। ফলে এ নিয়ে নানা হিসেব নিকেশ চলছে। মান্নান বলয়ে চিন্তার ভাজ পড়েছে।
এছাড়া সোনারগাঁয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ওই উপজেলার ভোট অনেকাংশে পেতে পারেন। আর অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে এবং এই আঞ্চলের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অনেক ভোট টানতে পারেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। ফলে এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে দুঃশ্চিন্তার অন্ত নেই। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com