বিএনপির বহিষ্কৃতদের ভরাডুবিতে সব কুল হারালেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৫ জন বিএনপি নেতা বিদ্রোহী করে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে এর মধ্যে তিন জন বিদ্রোহী প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া আরও একজন প্রার্থী ভোটের মাঠে ভরাডুবি হয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের সকলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেকারণে তাদের আর দলে ফিরে যাওয়ার এবং রাজনীতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এছাড়া ভোটের মাঠে ভরাডুবির ফলে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নও ভেস্তে গেছে। সব মিলিয়ে তারা সব কুল হারিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নেমেছিল। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ- আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মো. দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শেষ সময়ে এসে এদের মধ্যে দুলাল স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেন। আর বাকি প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদের ভরাডুবি হয়।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৫ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানে ২৮ হাজার ৭৫৯ ভোট।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান খান ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৬৪ ভোট বাতিল হওয়ায় ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ৪১ হাজার ৬০৭ ভোট।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। যার মধ্যে ১০ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
আসনটির মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৫৯ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯ ভোট বৈধ বলে গণ্য হয়। এই বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হলো ৩২ হাজার ৮৪১।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ৪ হাজার ৭৭৯ পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। তার জামানত বাজেয়াপ্ত না হলেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে শাহ আলম ছাড়া বাকিরা সবাই জামানত হারিয়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। এছাড়া শাহ আলম জামানত না হারালেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। উল্টো ভোটের দিন এক কেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে তাকে ভোট চোর আখ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে তিনি সেই ঘটনায় মান সম্মান খুইয়েছেন। এতে তারা রাজনীতিক ক্যারিয়ার, পদ পদবী, মান সম্মান সহ সব কিছু হারিয়েছেন।
মতামত দিন