Box-2

মিথ্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন জাকির খান

২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী আততায়ীদের গুলিতে খুন হন ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার। এই মামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হলে, দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে আদালতের রায়ে এই মামলা থেকে জাকির খান সহ সকল আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। ফলে এই মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাকির খানকে মামলার আসামি করে হয়রানি করা হয় ও গ্রেফতার করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। 
জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার । এ হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান তৃণম‚ল বিএনপির মহাসচিব এবং নিহতের বড় ভাই তৈমুর আলম খন্দকার বাদী হয়ে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নামে ফতল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর মোট ৯ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তিতে সিআইডির এএসপি মসিহউদ্দিন দশম তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ প্রায় ৩৪ মাস তদন্ত শেষে তিনি ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারী আদালতে ৮ জনকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করেন। এতে মামলা থেকে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, তার শ্যালক জুয়েল, শাহীনকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট ৮ জনকে আসামি উল্লেখ করা হয়।
এ চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় মামলার বাদী তৈমুর আলম খন্দকার চার্জশিটের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। নারাজি পিটিশনে তৈমুর আলম বলেছিলেন, ‘গিয়াসউদ্দিনই সাব্বির আলম হত্যাকাÐের ম‚ল নায়ক। গিয়াসউদ্দিন ও তার সহযোগীদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা একটি গোঁজামিলের চার্জশিট দাখিল করেছেন।’
এরপর থেকে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) মামলার শুনানি চলে আসছিল। গত ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে তৈমুর আলম খন্দকার আদালতে দাখিলকৃত না রাজি পিটিশনটি আবেদন করে প্রত্যাহার করে নেন। নারাজি পিটিশন প্রত্যাহারের কারণে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন এখন আর মামলায় অভিযুক্ত নেই। ফলে সিআইডি ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে যে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন তার উপর ভিত্তি করেই মামলাটি পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ হত্যাকাÐে পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে জাকির খান দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপণে থাকার পর গোপনে দেশে ফিরে এসে রাজধানীর বসন্ধুরা আবাসিক এলাকায় পরিচয় গোপন করে সপরিবার বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিাকির খানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর পর থেকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম হত্যা মামলার রায়ে জাকির খানসহ সব আসামি খালাস পান।
জাকির খানের আইনজীবী রাজিব মÐল দেশকণ্ঠকে বলেন, মিথ্যা মামলায় জাকির খানকে আসামি করা হয়েছিল। পরে আদালত জাকির খান সহ এই মামলার সকল আসামিকে খালাস দিয়েছে। আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে- এটি মিথ্যা অভিযোগ ছিল। 
মিথ্যা মামলা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ লাভবান হওয়ার জন্য এই মিথ্যা মামলা করে তাকে ফাঁসিয়েছেন। এবং এই মামলায় জাকির খান ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। ফলে এর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রও ছিল।
এছাড়া বিএনপি দলের একাধিক নেতৃবৃন্দ বলছে, মিথ্যা মামলায় জাকির খানকে ফাঁসানো হয়েছিল। সেই মামলা দীর্ঘদিন তিনি কারাবরণ করে জেল খেটেছেন। তবে অবশেষে সেই মামলা থেকে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com