বন্দরে পুলিশের ওপর হামলা করে শর্টগান ছিনতাই, দুই পুলিশ আহত
পরে, অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১ মে) ভোর আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি বেল গাছের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাইকৃত শর্টগানটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ লিমা-৪ টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় সিফাত ওরফে টুটুল (২৮), শাহারিয়া তানভীর (২৯) ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক (২৯) নামে তিন ব্যক্তি তাদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়িতে প্রাথমিক তদন্তে গেলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ আরো জানায়, হামলায় কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার ডান হাতের দুইটি আঙুল কেটে যায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। এ ছাড়া এএসআই সোহেল রানাকেও হাঁটুর নিচে কুপিয়ে আহত করা হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা কনস্টেবলের কাছে থাকা সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয়।
পরে খবর পেয়ে থানা ও ফাঁড়ির অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। গুরুতর আহত কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালে ছিনতাইকারীরা হামলা চালিয়ে অস্ত্রটি নিয়ে যায়। তবে পরে ঘটনাস্থলেই অস্ত্রটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। আমরা সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এখন জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, “ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন