Box-4

ফতুল্লায় ৮০ পিস পাসপোর্ট ও ভুয়া সিল সহ গ্রেপ্তার ৩

ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন কে তিন সহযোগি সহ গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের অনত্যম সহোযোগি বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ফতুল্লা মডেল থানার রেল স্টেশন এলাকার মৃত মুছা বেপারির পু্ত্র  মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আজিবপুরের মৃত জয়নাল মিয়ার পুত্র মোঃ রাশেদ ও ফতুল্লা থানার শান্তি ধারার হাজী আব্দুল জব্বার মিয়ার পু্ত্র তানহা।

এ সময় তাদের নিকট থেকে ৮০ পিস পাসপোর্ট, বেশ কিছু ভূয়া সিল, এন আইডি কার্ড, সুইচ গিয়ার ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মোঃ শামিমেী নেতৃত্বে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ  ভুইগড়স্থ কেএমএস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন জেলার শির্ষ স্থানীয় একজন মাদক ব্যবসায়ী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনের সহযোগি বলে জানা যায়।

  তবে স্থানীয়দের ভাষ্য মতে,এ ই অফিসটি তারা ছাত্রদল নেতা দোলনের বলে জানতো।
অপরদিকে অভিযানে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, দোলনের ও একটি অফিস রয়েছে এই ভবনে। সে প্রতিনিয়ত এখানে যাতায়াত করতো বলে তারা জানতে পেরেছে।

একাধিক সূত্র মতে, মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিন ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার মুছা বেপারির পু্ত্র। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় সোহাগ  হত্যা  ও মাদক মামলা সহ প্রায় ৮-১০ টি মামলা রয়ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ও মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশি অভিযান এড়াতে সে দেলপাড়া রেল স্টেশন এলাকা ছেড়ে দেলপাড়া এলাকায় বাসা নিয়ে বসবাস করতো।  ঢাকা জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেলপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান আইস, ইয়াবা সহ প্রায় কোটি টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান দোলনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো।

কেএমএস টাওয়ারে অফিস ভাড়া নিয়ে তারা মাদক সেবনের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী একটি অর্ধ নির্মানাধীন বহতল ভবনে মাদক মজুত রাখতো। অফিসে বসে টাকা গ্রহন করতো আর অর্ধ নির্মানাধীন বহতল ভবন থেকে মাদক সরবরাহ করতো। স্থানীয়রা ঐ ছাত্রদল নেতার ভয়ে প্রতিবাদ করতো না।

অভিযান পরিচালনায় থাকা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মিলন ফকির জানায়, ভবনটির যে অফিসটিতে তারা অভিযান পরিচালনা করেছে সেটি রাশেদ নামের এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়েছিলো। আর ছাত্রদল নেতা দোলনেরও একটি অফিস রয়েছে ঐ একই ভবনে। তবে তারা জানতে পেরেছে কোন এক নেতা এই অফিসে যাতায়াত করতো।
তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনাকালে ৮০টি পাসপোর্ট, জাল সিল, ভূয়া এনআইডি কার্ড ও একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়। মাদক সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে করে বুঝা যায় এই অফিসটিতে মাদকের আসর বসতো। তাদের কে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

 এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোঃ শমামী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এরা একটি অপরাধী চক্র। তারা নানা অপরাধের সাথে  জড়িত। এদের সাথে আর কে কে জড়িত রয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
• সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com