নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যারা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জোর তাগিদ দিচ্ছে বিএনপি দলটি। এ নিয়ে সরগরম দেশের সবগুলো জেলা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা জাকির খান কারামুক্ত হলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে কে হবে প্রার্থী, কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে কারা এগিয়ে রয়েছে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সেই হিসেব কষে জনপ্রিয়তার এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সে বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে এখন থেকে মাঠ গুছাতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
এই আসনে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীদের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
জানা গেছে, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে ১৯৯১, (ফেব্রুয়ারি) ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলের চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার গুডবুকে বরাবর তিনি ছিলেন। ফলে এই নেতা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বেশ এগিয়ে থাকবেন। তবে বর্তমানে রোগাক্রান্ত হয়ে বয়সের ভারে তিনি ন্যূজ প্রায়।এছাড়া এই আসনে নতুন ও তরুণ কাউকে সুযোগ দিলে প্রার্থীতার লড়াইয়ে ছিটকে পড়বেন এই প্রবীণ নেতা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান দীর্ঘদিন কারাবরণ করে সম্প্রতি মুক্ত হয়েছেন। তার কারামুক্তির দিন নারায়ণগঞ্জ শহরে বিশাল শোডাউন করেন। পুরো শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। দীর্ঘদিন তিনি কারাগারে থাকলেও তার নেতাকর্মীদের বিশাল বহরে সামান্য প্রভাব পড়েনি। উল্টো তার কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে নতুন ও তরুণদের তালিকায় এই প্রার্থী বেশ এগিয়ে থাকবেন। সম্প্রতি তার প্রার্থী হওয়ার নানা কথা শোনা যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সেভেন মার্ডার মামলার আইনজীবী হয়ে বেশ আলোচিত হয়েছেন। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে পরাজিত হন। এরপর থেকে মহানগর বিএনপির কমিটিতে পদ পেয়ে রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। শহরজুড়ে তার প্রার্থী হওয়ার পোস্টার সাটানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ। দীর্ঘদিনের রাজনীতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ছাত্রদল থেকে শুরু করে মহানগর বিএনপির কমিটিতে ত্যাগি নেতাদের তালিকায় রয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা ও জেলা-জুলুমের শিকার হয়েছেন। এই আসন থেকে তার প্রার্থী হওয়ার পোস্টারও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছেয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক মেয়াদ ধরে বিএনপির শরীক দলের জন্য এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার সমীকরণের হিসেবে নানা পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে জেলা শহর হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। কে হাসবে শেষ হাসি তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
মতামত দিন