পরকীয়ার জেরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন, স্ত্রী-প্রেমিক সহ গ্রেফতার ৭
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে মো. নয়ন (৪৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের জেরে নয়নের নিজ স্ত্রী সাবিনা ও তার প্রেমিক রাসেল মিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য নানা চেষ্টা করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলো- নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা (৪০), তার দুই মেয়ে সুমনা (২০), সানজিদা (১৮), পরকিয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল (৪৫), চয়ন (৩৮), মানিক (৩২) ও জুয়েল (৩০)। এদের মধ্যে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা দুই মেয়ে সুমনা-সানজিদা ও চয়নকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। মানিককে ফতুল্লার পিলকুনির যে স্থান থেকে নয়নের খন্ডিত পা উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে আটক করা হয়। জুয়েলকে ফতুল্লা তার নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে সাবিনা ও রাসেলের দেয়া তথ্য মতে মঙ্গলবার রাতেই পিলকুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে হামিদা বেগমের বাড়ির সামনে থেকে খন্ডিত দু’টি পা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, নিহত নয়ন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং এর পাশাপাশি তিনি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার দুই সংসার ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীর পূর্বের সংসারে দুই মেয়ে ছিল। প্রায় ৫-৬ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ওরফে সাবরিনাকে বিবাহ করেন তিনি। তবে গত ৩ বছর পূর্বে নিহত নয়ন একটি মাদক মামলায় জেল হাজতে যায়। এই সুযোগে নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা অপর আসামি রাসেলের সাথে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নয়ন জামিনে মুক্তি পান। তবে দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে রাসেলের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এ নিয়ে তার স্ত্রী সাবিনাকে জিজ্ঞাসা করলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সাবিনার ভাড়া ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তার প্রেমিক রাসেল। এ নিয়ে নয়ন ও রাসেলের মধ্যে বাকবিতন্ডা দেখা দেয়। তখন ফ্ল্যাটের ভিতরে দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সানজিদা উপস্থিত ছিল। এর এক পর্যায়ে সাবিনা ও রাসেল ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নয়নকে আটকে ফেলে ও লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং উপর্যুপরি ধারালো ছোরা দিয়ে নিম্নাংশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা নিশ্চিত করে।
এই ঘটনার পরদিন (৬ অক্টোবর) তাদের সহযোগী চয়ন, জুয়েল, নোমান, সুমাইয়া, সানজিদা ও সামির (পলাতক আসামি) সহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন মিলে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে হেক্স ব্লেড দিয়ে নিহতের দুটি পা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ থেকে উপরের অংশ আলাদা করে রশি দিয়ে হাত সহ বেঁধে পলিথিনে মুড়িয়ে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার তক্কার মাঠ সংলগ্ন মাওয়া সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জমিতে ফেলে দেয়। এবং শরীর হতে বিচ্ছিন্ন পা দুটি সহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নানা আদালত ফতুল্লার পিলকুনি সরকারী প্রাইমারী স্কুলের পাশে জনৈক আশরাফ এর ফাঁকা জমিতে ফেলে দেয়। পরে ৭ অক্টোবর দুপুর সোয়া ২ টায় ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকা সংলগ্ন মাওয়া সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জমিতে নীল রংয়ের প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নিহত নয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে এ ঘটনায় জড়িত সাবিনা, রাসেল, চয়ন, জুয়েল, নোমান, সুমাইয়া ও সানজিদাকে আটক করে পুলিশ। তারা সবাই হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত নয়নের বিচ্ছিন্ন দুটি পা সহ নানা আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর আসামিদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মতামত দিন