Box-3

ভয়াবহ দূষণে মৃত প্রায় শীতলক্ষ্যা নদী

ভয়াবহ দ‚ষণের কবলে পড়ে এখন মৃত প্রায় এক সময়ের স্বচ্ছ ¯্রােতস্বিনী নদী শীতলক্ষ্যা। কারখানার বর্জ্য পরিশোধন না করেই ফেলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের প্রাণ এই নদীতে। সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও নালা দিয়ে পড়ছে পয়ো বর্জ্যও। ফলে বিষাক্ত হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রকৃতির অনন্য দান শীতলক্ষ্যা নদীর স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি। এ পানি ব্যবহার করে চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি লিটার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শীতলক্ষ্যায়। জীববৈচিত্র টিকে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে ন‚ন্যতম ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন দরকার। কিন্তু শীতলক্ষ্যার পানিতে আছে মাত্র শুন্য দশমিক এক মিলিগ্রাম। ফলে মাছ কিংবা কোনো জলজ প্রাণিই বেঁচে থাকতে পারেনা। এ অবস্থায় পানি দ‚ষণ রোধে ডাইং কারখানাগুলোতে ইটিপি প্লান্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের। 
এলাকাবাসী জানান, প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ নগরীর গোড়া পত্তন হয়েছিল শীতলক্ষ্যা নদীকে ঘিরেই। এলাকার মানুষের কাছে এই নদীর পানি ছিল পানের উপযোগী। কিন্তু ভয়াবহ দ‚ষণের কারণে এক কালের সুপেয় পানি এখন বিষ। প্রতিদিন ডাইং সহ শত শত শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শীতলক্ষ্যায়। খাল এবং ড্রেনের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে কোন ধরণের পরিশোধন ছাড়াই। ফলে ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে শীতলক্ষ্যা। ভরা বর্ষায় কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও বছরের বাকি সময় পানির রং থাকে কালচে ও দুর্গন্ধময়। এই পানি ব্যবহার করে নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
চিত্তরঞ্জন খেয়াঘাটের মাঝি মুছা মিয়া জানান, পানিতে খুবই দুর্গন্ধ। মনে হয় পইচ্যা গেছে। বৎসর কুড়ি আগেও পানি ছিল টলটলা। মাটির কলসে এ পানি রেখে পান ও রান্নার কাজে ব্যবহার করতো গ্রামের মানুষ। পঞ্চাশোর্ধ এক যাত্রী মোহাম্মদ হোসেন জানান, এক সময় এই নদীতে গোসল করছি। এখন পানি দুর্গন্ধময়।
বন্দর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির সোহেল জানান, বন্দরে কয়েকটি খাল ও নালা এবং সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি খাল দিয়ে ডজনখানেক ডাইং কারখানার বর্জ্য পড়ছে শীতলক্ষ্যায়। ফলে কালো বর্ণ ধারণ করেছে নারায়ণগঞ্জের লাইফ লাইন খ্যাত শীতলক্ষ্যা নদীর পানি। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরও। কিন্তু নদী দ‚ষণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম জানান, পানি দ‚ষণ রোধে অচিরেই পয়ো বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। নদীর দুই পারে শিল্পকারখানা রয়েছে দুই হাজারেরও বেশী। কিন্তু এ গুলোর অধিকাংশেরই নেই বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি প্লান্ট। সেজন্য ক্লাস্টার ইটিপি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এইচএম রাসেদ জানান, পানি দ‚ষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান চলছে। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com