ব্যবসায়-বাণিজ্য

হাতেম-আল আমিনে চলছে স্নায়ু যুদ্ধ

সম্প্রতি বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচান করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। এই ঘটনার জেরে হাতেম অনুসারীরা সংসদ সদস্য আল আমিনকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ও বিক্ষোভ করেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য আল আমিন মামলা করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মামলা করার কোন খবর পাওয়া যায়নি। যদিও বিগত সময়ে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের হাত থেকে ৫০ লাখ টাকার মোটা অংকের অনুদান গ্রহণ করছেন। কিন্তু এখন এই ব্যবসায়ী নেতাকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এর পেছনে বিসিকের ঝুট ব্যবসা সহ গার্মেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিকের ঝুট সেক্টর সহ নানা সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারীরা। যে বিষয়টি হজম করতে পারছেনা সংসদ সদস্য অনুসারীরা। যেকারণে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তাকমা দিয়ে ঘায়েল করতে চাইছেন এই পক্ষ। তবে এই ঘটনায় মামলা না করার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে, যে নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্পাঞ্চলে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে উদ্দেশ্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। এতে সভাপতি হাতেম ইফতার মাহফিল বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন। তবে তার অনুসারী ও ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য আল আমিনকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ও বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তবে এই ঘটনার একদিন পর মামলা করার কথা শোনা যাচ্ছিল। যদি শেষতক কোন মামলা হয়নি। এতেই প্রশ্ন উঠে- কেন মামলা করা হলোনা।
এ দিকে ফতুল্লা বিসিকে বড়, মাঝারি ও ছোট মিলিয়ে প্রায় ৫০০ তৈরি পোশাক ও নিটিং কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বড় রয়েছে ১০৮টি। এসব রয়েছে মোহাম্মদ হাতেমের দখলে। তিনি যখন যাকে গার্মেন্টস থেকে মালামাল নামানোর পারমিশন দিচ্ছেন তখনই বিএনপির নব্য কিছু নেতাকর্মীরা হাতেমের জয়জয়কার বলে তার কথায় সেগুলোতে মালামাল নামে বলে জানা গেছে। 
ব্যবসায়ীদের দাবি, (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাহেবের বলার পরেই বিএনপির কিছু লোকেরা গার্মেন্টস থেকে ঝুটসহ ঝুটসহ অন্যান্য পণ্য কারখানা থেকে বিনা ম‚ল্যে বা নামমাত্র দামে নিয়ে যাচ্ছে সেই বিগত দিনের মতোই।
এদিকে স্থানীরা বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে হাতেমের সুসম্পর্ক ও ঝুট সেক্টর দেওয়ার ফলে বেশ যোগাযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়টিতে মানতে নারাজ সংসদ সদস্য আল আমিন অনুসারীরা। যেকারণে তার অনুসারীদের এ দিকে নজর পড়েছে। আর তা থেকে সংসদ সদস্যর কান ভারী করা হয়। সেই থেকে হাতেমের বিগত দিনের নানা কর্মকাÐ তুলে ধরে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। যাতে করে ফের তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ও অসম্মান করা হয়। 
বোদ্ধামহল মনে করছেন, কেউ যদি ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বা অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এতো দিনেও হাতেমের প্রতিদ্ব›দ্বীরা এমনটি করেনি। এমনকি এবার অবরুদ্ধ থাকার পরও সংসদ সদস্য আল আমিন কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে ‘ডাল ম্যা কুছ কালা হে’। তার মানে হচ্ছে এর পেছনে কোন সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা রয়েছে তা বোঝার অপেক্ষা রাখেনা। ফলে তাদের মধ্যে এখনো এক ধরনের ¯œায়ুযুদ্ধ চলছে বলে মনে করেন বোদ্ধামহল।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com