রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হবে দোকান-শপিংমল
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, নিতাইগঞ্জ ও কালীরবাজারে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরই নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ দোকান ও শপিংমলে ক্রেতাদের চাপ বাড়ে। ফলে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বঙ্গবন্ধু সড়কের এক ব্যবসায়ী রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সন্ধ্যার পরই আমাদের ব্যবসার মূল সময়। হঠাৎ করে ৮টার মধ্যে বন্ধ করলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তবে দেশের প্রয়োজনে আমরা সিদ্ধান্ত মেনে চলার চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শহরের যানজটও কিছুটা কমতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় করে বিষয়টি কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে মার্কেটভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যাতে সব ব্যবসায়ী একই নিয়ম মেনে চলেন।
তবে হোটেল, ফার্মেসি, কাঁচাবাজার ও জরুরি সেবাসংক্রান্ত দোকান এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। ফলে নগরবাসীর প্রয়োজনীয় সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর একাংশ বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে এটি কার্যকর করতে হলে প্রশাসনের নজরদারি ও ব্যবসায়ীদের আন্তরিকতা জরুরি।
সব মিলিয়ে জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এখন নারায়ণগঞ্জেও বাস্তবায়নের পথে। ব্যবসা ও জনজীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মতামত দিন