ফতুল্লার কুতুবপুরে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্য সড়কে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুতুবপুরের ৯নং ওয়ার্ডের রামারবাগ এলাকার রিয়া গোপ স্টেডিয়াম সংলগ্ন রয়েল গার্মেন্টসের সামনে এই অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।
তবে এই উদ্ধারকৃত প্রাণঘাতী অস্ত্রের মালিক কে, কীভাবে এটি রাস্তায় এলো এই প্রশ্নের এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে, যা আরও জটিল করেছে পুরো পরিস্থিতি।
অস্ত্র উদ্ধারের দিন সকালেই একই এলাকায় ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে সুপারস্টার বাল্ব কারখানার ওয়েস্টেজ ব্যবসায়ী আমির হামজার ওপর হামলা চালায় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাদবর এবং তার ছেলে যুবদল নেতা রনি। হামলার সময় হামজার কাছ থেকে নগদ ৯৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দৃঢ় ধারণা, এই হামলার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীদের কারো কাছ থেকে পিস্তলটি রাস্তায় পড়ে যায়, যা পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে কুতুবপুরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলে আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অনেকটাই ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন পার করছেন।
প্রকাশ্যে একটি বিদেশি পিস্তল পড়ে থাকা ঘটনাটি তাদের কাছে নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে এবং সন্ত্রাসীরা এখন আর কোনো কিছুতেই ভয় পাচ্ছে না।
ঘটনার তদন্তে নেমে শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পুলিশ। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ফেরদৌসুর রহমান ইমন জানান, সুপারস্টার বাল্ব কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় সেখান থেকে কোনো ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, রয়েল গার্মেন্টসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হলেও তাতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা অস্ত্রটির মালিক বা ফেলে যাওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পরিত্যক্ত অস্ত্র হিসেবে ঘটনাটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন,উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত দিন