ফতুল্লায় তেল চোর চক্রের দৌরাত্ম্য
ফতুল্লা প্রতিনিধি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি ‘অভিনব’ পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছে জ্বালানি। একটি লরির ধারণক্ষমতা ১০ হাজার লিটার হলেও পরিবহনের সুবিধার কথা বলে সাধারণত ৯ হাজার লিটার তেল ভরা হয়। কিন্তু সেই সুযোগে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৫০০ লিটার তেল গোপনে বহন করা হয়, যা পরে মাঝপথেই বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগ রয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদী তীরে জাহাজ থেকে ডিপোতে তেল খালাসের সময় কৌশলে বালুবাহী বাল্কহেডে তেল সরিয়ে নেওয়া হয়। এ কাজে জড়িত রয়েছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বপন, কালাম, হৃদয়, রনি, পাগলা রাজু, ফয়সাল, কাইল্লা সোহেল, নাসির উদ্দিন, জালাল মিয়া, মাসুদ ও চৌধুরী বাড়ি এলাকার ইকবাল চৌধুরী। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব লোকবল রয়েছে, যারা বিভিন্ন ধাপে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত।
এদিকে শুধু চুরি নয়, চুরি করা তেল প্রকাশ্যেই বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। যমুনা ডিপোর এক কর্মচারীকে মাসদাইর জেলা পুলিশ লাইন্সের আশপাশে অবৈধভাবে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একইভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে খোলামেলাভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে দেখা যায়। পার্ক সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল ইসলাম, শিবু মার্কেটে শেখ শাজাহান, চাঁনমারী নতুন সড়কে আয়নাল হক, বক্তাবলী বাজারে আক্তার হোসেন ও আলমগীর মোল্লা, গুদারাঘাটে হাছান আলী, রাজাপুর বাজারে আলী হোসেনসহ আরও কয়েকজন প্রকাশ্যে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিপো সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই তেল চোর চক্রের মাধ্যমে অনেকেই অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এরই মধ্যে যমুনা ডিপোর তেল পরিমাপক ও সিবিএ নেতা জয়নাল আবেদীন টুটুল-এর বিরুদ্ধে সোয়া লাখ লিটার তেল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) একটি কমিটি গঠন করে। গত ১১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চুরি ও অবৈধ বাণিজ্য চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চক্রটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জ্বালানি খাতের এই অনিয়ম বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
মতামত দিন