প্রধান খবর

পুলিশের ওপর বার বার হামলা কেন?

নারায়ণগঞ্জে একের পর এক পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় জেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি পুলিশের উপর হামলার পর সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার দুর্সাহস দেখিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে করে জনমনে বেশ ভীতিসঞ্চার হয়েছে। তবে এবার পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। সেই সাথে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। ফলে একই রকম ঘটনার বার বার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর এলাকায় পুলিশের কর্মকর্তা সহ দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় পুলিশের শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আহত দুই জন হলেন - মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেরে থানার ডিউটি অফিসার বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই মোঃ সোহেল রানাকে বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তী এএসআই মোঃ সোহেল রানা সংগীয় ফোর্সসহ অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর থানাধীন চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর রোডস্থ জনৈক গুলু মিয়ার বাড়ীতে গেলে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার কাছ থেকে সরকারী শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। আর এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ে হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভোরে বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকায় জনৈক গুলু মিয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া সোহান এর টিন সেট ঘরের পিছন থেকে ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে তিনজনকে আটক করা হয়।

এর আগে, গত ১৫ মার্চ বিকেলে শহরের উকিলপাড়া রেল লাইন সংলগ্ন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত দুজন হলেন- অনিক (২৮) ও মিস্টার (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শহরের উকিলপাড়া রেল লাইন সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে টহলরত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও তার সাথে থাকা কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম মাদক বিক্রি ও সেবনের দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় তারা দৌঁড়ে গিয়ে দুজনকে গাঁজা সহ আটক করেন। তবে আটককৃতদের সঙ্গী ও সহযোগি ৫-৬ জন এসে পুলিশের কর্মকর্তা সহ সদস্যের ওপর হামলা চালায় ও মারধর করে। এতে এসআই মিজানুর রহমান এর ব্যবহৃত মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা দৌড়ে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে অনিক ও মিস্টার নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হয়রানির অভিযোগ তুলে পুলিশকে মারধর করার অভিযোগ তুলেছে বেশ কয়েকজন যুবক। এ সময় পুলিশের পোশাক ধরে টানা হেঁচড়া করছে কয়েকজন যুবক। আর সেই সাথে পুলিশকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি সহ লাথি মারা হচ্ছে। ফলে এ ঘটনা নিয়ে ধুম্রোজাল তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, পুলিশের উপপরিদর্শক মিজান মাদক বিরোধী অভিযানে অংশ গ্রহণ করে অপরাধীদের আটক করলে তার সহযোগিরা এসে পুলিশের উপর হামলা করে ও মারধর করে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন লুৎফর রহমান নামে পুলিশের একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তা। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার সরকারি পিস্তল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত লুৎফর রহমান নারায়ণগঞ্জ সদরের শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে টহল টিমে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা মন্ডলপাড়া ব্রিজের দিকে দায়িত্ব পালন করছিল। দায়িত্ব পালনকালে নারায়ণগঞ্জ সদরের শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান টয়লেট ব্যবহারের জন্য টিম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেল ছিল। পথে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে এবং চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। তিনি সরে গেলে চাপাতি আঘাত থেকে বেঁচে যান। পরে তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তলটি লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সময় তিনি পুলিশের পোশাকে ছিলেন।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিশাল ওরফে বিশাল নামে এক যুবককে আটক করে। সে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনাযায়ী বন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের ছিনতাই হওয়া পিস্তল সহ ২টি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দিন দিন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি পুলিশ বেশ হার্ডলাইনে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় অপরাধীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। এর ধারাবাহিকতায় পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে এই বিষয়টি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। শিঘ্রই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আরও অনেক অঘটনা ঘটতে পারে।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com