প্রধান খবর

বিএনপির বিষফোঁড়া ফেন্সি আরিফের নানা অপকর্ম

নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল ওরফে 'ফেন্সি আরিফ' ও তার বাহিনী ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভূগর্ভস্থ ডিপিডিসির কোটি টাকা মূল্যের ‘ডেড ক্যাবল’ (পরিত্যক্ত তার) উত্তোলন করে চলেছেন আরিফ মন্ডল ওরফে 'ফেন্সি আরিফ' ও তার শ্যালক মোহাম্মদ রাজু সহ তার অনুসারীরা। এছাড়া নানান ধরনের অপকর্মে তারা জড়িত রয়েছে। ফলে বিএনপির পদ পদবী ব্যবহার করে এসব অপকর্ম করায় খোদ নিজ দলের ক্লিন ইমেজধারী নেতাকর্মীদের কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে এই ফেন্সি আরিফ।
সংঘর্ষ ও রহস্যজনক রফাদফা
সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি ভূগর্ভস্থ ক্যাবল উত্তোলনের সময় কাশিপুর হাটখোলা যুবদলের একাংশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এক রহস্যজনক সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো সময় ঘটনাস্থলে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
বিপজ্জনক চুরির উৎসব
পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর ফ্লাইওভার নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের সুযোগ নিয়ে মাটির নিচের সরকারি তার চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন আরিফ মন্ডল। এ পর্যন্ত প্রায় ছয় দফায় কোটি টাকার সরকারি তামার তার উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এই ক্যাবল চুরির সময় বারবার তিতাস গ্যাসের সংযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
দলের ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের ক্ষোভ
আরিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা (ফেনসিডিল), ভূমিদস্যুতা ও ফিটিংবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি এর আগে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বিদ্রুপ করে বলছেন, "সময় এখন বর্ষাকাল, ছাগলে চাটে বাঘের গাল-বাটপাররা এখন চেয়ারম্যান হতে চায়।"
আরিফ মন্ডলের অনুসারী চৌরা জইল্লার পুত্র ব্যাটারী মিলন, তোতলা নূরআলম, ইমরান, পল্টু, বড় মাথা মোহাম্মদ হোসেন, আরিফ মন্ডলের শ্যালক রাজু, শান্ত, জলিল, রেহানার পুত্র সোহেল, কন্ট্রাক্টারের ভাতিজা সোহেল, হিমেল, জিতু, মারফতের পুত্র বগি সোহেল, তিতাস গ্যাসের চানপুইরা সুমন, ওমর সহ আরও একাধিক ভয়ংকর সন্ত্রাসী রয়েছে আরিফ মন্ডলের গ্রুপে। তারা গোটা কাশীপুরের উল্লেখিত অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করেন। আরিফ মন্ডলের থাবা থেকে রেহাই পায়নি শান্তিনগর মসজিদ ও কবরস্থানও। তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে সেই অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে মিথ্যা উপস্থাপন করতে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাধ্য করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপি আজ এই অবস্থানে। কোনো চোর, বাটপার বা মাদক ব্যবসায়ী দলের নেতৃত্ব দেবে-এটি মেনে নেওয়া যায় না। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বিতর্কিত আরিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
কাশিপুরের রাজনীতিতে স্বচ্ছ ইমেজ ফিরিয়ে আনতে এবং দলের প্রতি জনমানুষের আস্থা ধরে রাখতে অনতিবিলম্বে এসব বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়ার এক সাক্ষাতকারে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল বলেন, বিগত ২০১৬ সালে আমাকে ধরে নিয়ে মাদক দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করিয়েছে, এরপর ডাকাতি, মাদক ও হত্যা মামলা দিয়েছে। সেই সময়ের ছবি দিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এছাড়া আমি কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো। সেই থেকে একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
আরিফ মন্ডলের ভাষ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক মামলা হয়নি, বরং তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল মামলা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এর সূত্র ধরে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলে সেফ জোনে ছিলেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সাথে গোপন আতাঁত করে স্রোতের অনুকুলে গাঁ ভাসিয়ে দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা আরিফ মন্ডল। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাতারাতি বনে যান ত্যাগী বিএনপি নেতা। আর সেই পদ-পদবী ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এই আরিফ মন্ডল।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com