Box-3

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া ৫ টাকা বাড়ানোয় ক্ষোভ

আন্দোলন ও হরতালের হুঁশিয়ারির মুখে কমানো হয়েছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা দু’টি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া আবারও ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করেছে বাস মালিকরা। এতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন যাত্রীরা।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তারা অবগত নন। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে, বাসভাড়া বাড়ানোয় ক্ষুব্দ যাত্রীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের বাসগুলোতে চলাচল করতে ৫৫ টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করছেন। যা আগে ছিল ৫০ টাকা।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ রুটে সর্বোচ্চ ২ টাকা ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে কিন্তু মালিকরা বাড়িয়েছেন ৫ টাকা।
পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে আগে বেসরকারি কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের শতাধিক বাস চলাচল করে। এ পথে ৪৫ টাকায় নন-এসি বাসগুলোতে যাত্রী পরিবহন করলেও কোভিডের সময়ে বাস ভাড়া এক লাফে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। পরে তা পাঁচ টাকা কমিয়ে ৫৫ টাকা করা হয়।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বাস ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। তারা আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেন।
পরে হরতালের একদিন আগে ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস-মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে বাস ভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।
এই সিদ্ধান্তের নয় মাসের মাথায় গত বছরের ২০ আগস্ট বাস ভাড়া পুনরায় বাড়ানো হয়। যদিও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পথে সরকারি পরিবহন বিআরটিসির যেসব বাস চলে সেগুলোর ভাড়া ৪৫ টাকা।
সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে সেবারও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন বাস মালিকরা। বাসভাড়া বাড়ানোর পর তৃতীয় দিনের মাথায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে বর্ধিত পাঁচ টাকা বাস ভাড়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
ফলে, গত কয়েক মাস ৫০ টাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীরা চলাচল করলেও গত ১ মে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া ৫৫ টাকা করা হয় বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
এ পথে নিয়মিত যাতায়াত করেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী মাহফুজুর রহমান। হঠাৎ বাসভাড়া বাড়াতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এ যাত্রী বলেন, “তেলের দাম বাড়ছে ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের তো ইনকাম বাড়ে নাই। আমরা তো ভাই লাখ লাখ টাকা কামানো লোক না। হিসাবে সংসার চলে আমাদের। হুট করে ভাড়া বাড়লে তো আমাদের হিসাবে গড়মিল হয়ে যায়।”
নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া ১৮ কিলোমিটারে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু পরিবহন মালিকগণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ’র দূরত্ব সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বলে দাবি করেন। তাদের সে দাবি অনুযায়ীও ভাড়া বৃদ্ধি পায় ২ টাকা ১৮ পয়সা। কিন্তু তারা ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
“বিভিন্ন সময় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সময় যাত্রী সাধারণের সাথে জেলা আরটিসির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসক আলোচনা করেন। কিন্তু এবার তা করা হয় নাই। আমরা ভাড়া বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়ার নিন্দা জানাই,” যোগ করেন রাব্বি।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময় আন্দোলনের মুখে বাসভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলেও এবার তা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
বিগত সময়ে বাসভাড়া কমানোর দাবির আন্দোলনেও সোচ্চার থাকা এ রাজনৈতিক নেতা বলেন, “বাস মালিকেরা জেলার কোনো দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। এমনকি তারা প্রশাসনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যেমন পরিবহন সেক্টরে সিন্ডিকেট নৈরাজ্য ছিল, এখনো তাই আছে বলেই এভাবে জনগণের পকেট কাটতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।”
তবে, যোগাযোগ করা হলে বাসভাড়া বৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রওশন আলী। তার ভাষ্য, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) দিয়ে চলাচল করা দু’টি পরিবহন- বন্ধন ও উৎসবের বাসগুলো তেলে চলে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ বাসগুলোর মালিকদের ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।
“৫৫ টাকা ভাড়াতো আগেই ছিল। ২০২৪ সালে আগস্টের পর অন্যায়ভাবে ভাড়া কমানো হয়েছিল। এবার তেলের দাম বাড়ানোয় আমরা প্রশাসনের কাছে গিয়েছিলাম, তারা কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় মালিকরা পরিবহন শ্রমিকদের সাথে বসে ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়েছে। নীতিগতভাবে এই ভাড়াবৃদ্ধি ঠিক আছে,” বলেন রওশন আলী।
তবে, নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্য পথে চলাচল করা আনন্দ পরিবহনের বাসভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে। কেননা, এ বাসগুলো গ্যাসে চলে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। সেখানেই বলা আছে- কিলোমিটার প্রতি কত টাকা ভাড়া বাড়বে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের কেউ অবগত করেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com