জাতীয়

অবসরের তিন বছরেও জয়নাল আবেদীন পাননি অবসর ভাতা

আবুল হাসেম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : মাধ্যমিক পর্যায়ের নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ বইটির রচয়িতা ও সম্পদনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলারপুরহরি গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের পুত্র জয়নাল আবেদীন। যে মানুষটি দীর্ঘ ১০ বছর জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) লেখক ও সংস্কারক হিসেবে কাজ করেছেন, সেই প্রথিতযশা শিক্ষক ও ব্যাকরণবিদ জয়নাল আবেদীনের জীবন কাটছে চরম দুঃখ-দুর্দশায়। অবসর গ্রহণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি তাঁর ন্যায্য অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা।

জানাগেছে, তিনি ১৯৮৮ সালে টাঙ্গাইলের সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষ করে নান্দাইল উপজেলার ইমাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। বাংলা ব্যাকরণে অগাধ পাÐিত্যের কারণে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এনসিটিবি’র মাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের সংস্কারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নামের পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে তাঁর নাম।তবে বাস্তব জীবনের চিত্রটি খুবই করুণ। ৩৩ বছর ৪ মাস শিক্ষকতা শেষে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসরে যান। বর্তমানে তাঁর পৈত্রিক ভিটায় কোনো ঘর নেই। অর্থাভাবে জরাজীর্ণ ঘরটি বিক্রি করে দিয়ে সেতুর পাশে একটি জানালা-দরজাবিহীন একচালা টং ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। সেখানেই একা রান্না করে খান আর নিভৃতে বই পড়েন। চার মেয়ের পড়ালেখা ও থাকার ব্যবস্থার জন্য স্ত্রী ঢাকায় অবস্থান করলেও জয়নাল আবেদীন অর্থের অভাবে নতুন ঘর তুলতে পারছেন না।
প্রথিতযশা শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, কারো প্রতি তাঁর কোন ক্ষোভ নেই। বাড়ি থেকে অল্পস্বল্প কৃষি আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় কোনোমতে টিকে আছে তাঁর পরিবার।

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুলতান উদ্দিন বলেন, "জয়নাল স্যার বর্তমানে খুবই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর মতো একজন মেধাবী মানুষের সন্তানদের পড়াশোনা অর্থের অভাবে বিঘিœত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রæত তাঁর পাওনা পরিশোধ করা।"

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস এবং এনসিটিবি’র কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা যথাযথ সদুত্তর দিতে পারেননি। শিক্ষকদের অবসর সুবিধার জন্য আলাদা বোর্ড থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে জয়নাল আবেদীনের মতো গুণী মানুষেরা আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে উপেক্ষিত হয়ে পড়ছেন। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com