সাখাওয়াতকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করলেন মাসুম
স্টাফ রিপোর্টার: নলক‚পের রেজিস্ট্রেশন ও পানির কর বাতিলসহ সহ নানা ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম। এ সময় তিনি প্রশাসক সাখাওয়াতের তীব্র সমালোচনা করেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আবাসিক নলক‚পের রেজিস্ট্রেশন ও পানির কর বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সমাবেশের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ গভীর নলক‚প ব্যবহারকারী আবাসিক সমবায় সমিতি।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, সাখাওয়াত সাহেব আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম, আমরা কোন রেজিস্ট্রেশন করবো না- কর দেবনা। আপনাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম। আপনার যদি ক্ষমতা থাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কর নেন। কিন্তু আমরা দেবনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা কাউকে চিনিনা। আমরা কোন দলকে চিনিনা। আমরা কোন নেতাকে চিনিনা। আমরা শুধু জানি আমাদের সুপেয় পানি দিতে হবে। নতুবা ওই চেয়ারে থাকার কোন অধিকার আপনার নাই। আপনি নির্বাচিত না, আপনি নিযুক্ত হয়েছেন। নিযুক্ত হয়ে আপনি নাগরিকদের কাছে করের বোঝা চাপিয়ে দেবেন।
ওয়াসার পানি স্পর্শ করলে শরীর নাপাক হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ওয়াসার পানি খাবার উপযুক্ত তো দূরের কথা, এই পানি স্পর্শ করলে শরীর নাপাক হয়ে যায়। ওয়াসা হস্তান্তরিত হয়েছে সিটি করপোরেশনের কাছে। আগে ওয়াসার বিল দিতাম ৩শ-৪শ টাকা। যেই সিটি করপোরেশনে গেল এই বিল এক হাজার টাকার নিচে আর হয়না। তাও আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের একটাই কথা ছিল, সিটি করপোরেশ এই সংকট থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সুপেয় পানি দেবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, গণঅভ্যুত্থানের পরে সবকিছুর পরিবর্তন হলে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। সেই প্রশাসক এসে বলে ওনি ৬০ দিনের প্রোগ্রাম নিয়েছেন। এই ৬০ দিনের মধ্যে ওনি নারায়ণগঞ্জকে মোটামুটি বদলে দেবেন। তিন দিন আগে সেই ৬০ দিন শেষ হয়েছে। এখন নারায়ণগঞ্জ বদলেছে- হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ গতকাল দেখলাম হকাররা ঝাকে ঝাকে বসে গেছে। মা-বোনরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হেটে যেতে পারেনা। পুরো ফুটপাত বন্ধ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পকলার এদিকে ময়লার স্তুূপ জমে আছে, আগে কখনো এরূপ ময়লা দেখিনি। অথচ আমাদের এমপির বাস ভবন এখানে, তারপরও এর কোন তোয়াক্কা নেই। আজকের এই অবস্থার মধ্য দিয়ে একটা ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। নাগরিক সমস্যার কোন শেষ নেই। সমাধান করা সম্ভব হচ্ছেনা। অটোরিকশার জন্য আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরে হাটতে পারিনা। ১৯৮৮ সালে গোদনাইলে পানি শোধনাগার হয়েছিল, অথচ এই প্রশাসক একদিনের জন্য সেখানে পরিদর্শনে যায় নাই। গোদনাইলের ওই শোধনাগার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা গেলে আমরা ভালো পানি পেতাম। সুপেয় পানি না পেলে আমরা ট্যাক্স দেবনা। যত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আমরা সবই নেব। আমাদের হাইকোর্টের রিটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আপনি ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি নিতে চান কেন? এটা তো হয়না।
মতামত দিন