প্রধান খবর

তালিকাভুক্ত ৫০ চাঁদাবাজ কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই আন্দোলনের পর নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির ঘটনা অনেকটা ওপেস সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজির নানা ঘটনা প্রকাশ্যে উঠে আসছে ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কেউ কেউ বহিষ্কার হচ্ছেন, আবার কেউ রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সেই প্রভাবশালীদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের নাম রয়েছে। এছাড়া জেলা ও থানা পর্যায়ের বিএনপি অনেক পদধারী নেতা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে দলের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। তবে এসব কিছুর পরেও নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানের ৫০ জন চাঁদাবাজের নাম তালিকা করেছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু আজও সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, এমনকি সেউ চাঁদাবাজদের কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠে- প্রশাসন কি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে বাধার সম্মুখিন হচ্ছে, নাকি অদৃশ্য কারণে তা থমকে গেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে পুলিশ-প্রশাসন চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় মোট ৩ হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুসারে দেশের অন্যান্য জেলার চাঁদাবাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য: গাজীপুর ৩৪, মানিকগঞ্জ ৩০, নারায়ণগঞ্জ ৫০, চট্টগ্রাম ৬৭, কক্সবাজার ৮৮, রাজশাহী ১৪, সিরাজগঞ্জ ১৮, সিলেট ৩৫, ভোলা ৭৩, পটুয়াখালী ৮৮। পার্বত্য তিন জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে; রাঙামাটি ৯২, খাগড়াছড়ি ৮৮, বান্দরবন ৬৬।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সেই ৫০ জন চাঁদাবাজের নাম এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে শহরের বিভিন্ন সেক্টরে প্রকাশ্যে ও গোপনে চলছে চাঁদাবাজি। সেই তালিকা ও অনুসন্ধান অনুযায়ী, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসিয়ে এক বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চলছে। পরিবহন সেক্টরগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির কয়েকজন নেতার নির্দেশে চলছে চাঁদাবাজি। তবে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ পরিবহন সেক্টরের ভুক্তভোগিরা।

শিবু মার্কেট কায়েমপুর এলাকার এস কে শাহীন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয় দিয়ে সড়ক ও জনপদের জায়গায় বসানো দোকান থেকে চাঁদাবাজি করে প্রত্যেক মাসে। ফতুল্লার শিবু মার্কেট থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের দুই পাশের দোকান থেকে প্রত্যেক মাসে চাঁদা আদায় করে আসছে।

বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল। ঝুট সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। কুতুবপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ডি এম আহসান হাবীব। তিনি লেগুনা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। জেলা ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরাফাত ঝুট সন্ত্রাসীপনা করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত হোসেন রানা বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তিনি ডেভিডের ভাগিনা পরিচয়ে এসব করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাজমুল বাবু। তিনি ভূইগড়, রূপায়ন ও শিবু মার্কেট থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন।

তাঁতীদলের উজ্জল সড়ক ও জনপদের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। সেই চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে ৪০ লাখ টাকায় নতুন গাড়ি কিনেছেন তিনি। এছাড়া রয়েছে পরিবহন চাঁদাবাজ সাঈদ। 

বন্দর উপজেলায় খেয়া ঘাটের আশেপাশে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে আসছে যুবদল নেতা পরিচয়ে হুমায়ূন কবির। তিনি এক বিএনপি নেতার দাপটে কিছুদিন পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ চেয়ারম্যানের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন। এছাড়া বন্দরে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করিয়ে আসছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজদের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের পরিচয় বদলে নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে চাঁদা আদায় শুরু করে। আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যের কাছেও পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি প্রায় আধা ডজন নেতাকে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই তালিকায় এমপি পুত্র সজীব সহ জেলা ও থানায় পর্যায়ের অনেক নেতা রয়েছে। 

গত ২১ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। 
আটকের সময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও হয়রানিসহ ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সজীবকে আটক করা হয়েছে। আমাদের কাছে তার বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি অভিযোগ এসেছে। এছাড়া ঢাকায় তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ আছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, হয়রানি, নারীঘটিত বিষয় এবং হুমকি উল্লেখযোগ্য। তবে সজীবের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করলেও এখনও মামলা করেননি। ’

২০২৫ সালের ১৫ মে সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরি পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও ক্লিপে আজাদ হোসেন নামের নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে চাঁদার জন্য রীতিমতো হুমকি দিতে শোনা যায় রিয়াদকে। 
তবে রিয়াদ গ্রেফতারের পর আজাদ হোসেন মামলা করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। তিনি আমার আত্মীয়। পরবর্তীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় এসআই শামীম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় রিয়াদকে এক নম্বর আসামি করা হয়।

গত বছরের ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠন মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম আসলাম ও জেলা তরুণ দলের সভাপতি টি.এইচ তোফাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা দু’জনই বিএনপির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস এম আসলাম সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এসও এলাকায় মেঘনা জ্বালানি তেলের ডিপোতে আধিপত্য বিস্তার করে চোরাই তেল, চাঁদাবাজি এবং নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

অন্যদিকে, টি.এইচ তোফা শিমরাইল মোড় ও আশপাশ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে ফুটপাত দোকান নির্মাণ, ভাড়াবাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন।
চলতি বছরের ২৬ এপ্রিলনারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি যায়গা দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট ও সড়ক দখল করে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙিয়ে আরও বেপরোয়া ভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন সালাউদ্দিন ও তার ভাই কামাল। তাদের এই চাঁদাবাজির ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন আওয়ামী লীগের দোসর মোশাররফ ওরফে কারেন্ট মোশাররফ। তবে তাদের দুই ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। 

এছাড়া গত ২৪ এপ্রিল আজিজুল হক নামে এক দোকানীর কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন ও দোকান ভেঙে দেয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ও তার ভাই কামাল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আজিজুল হক চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে  যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোগড়াপাড়া ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আটক করা হয়। 
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আতাউর মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত বিভিন্ন মার্কেটে প্রায় ৩০টি দোকানে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে প্রত্যেক দোকানির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের দোকান খুলে দেয়। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প‚র্ব পাশে সড়ক ও জনপথের বিশাল জায়গা দখল করে ফলের দোকান বসিয়ে দোকান প্রতি ৫০০ টাকা করে প্রতিদিন দুই লাখ টাকার উপরে চাঁদা আদায় করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ নাফ ও বোরাক পরিবহন এবং ট্রাক স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজি করছে আতাউর। শুধু তাই নয়, আতাউর, মোতালেব কমিশনারসহ বিএনপির একাধিক নেতা মেঘনা গ্রæপের মেঘনা ইকোনমিক জোন ও বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে মালিকদেরকে ওয়েষ্টটেজসহ বিভিন্ন মালামাল তাদেরকে নির্দেশ দেয়।

চলতি বছরের গত ২১ ফেব্রæয়ারী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রæপের মধ্যে কয়েক দফায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক আলিফ বলেন, ইয়াসিন আরাফাতের কোনো পদ-পদবি নেই। তিনি নির্বাচনের সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এখন পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজি করেন। এ বিষয় প্রতিবাদ করায় আমাদের এনায়েতনগর ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক বিপ্লবকে রাস্তা থেকে ধরে ইয়াসিন আরাফাত তাদের রোলিং মিলে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াছিন আরাফাত জানান, তিনি পঞ্চবটি এলাকার এমদেদিয়া রোলিং মিলের মালিক। শনিবার বিকেলে আলিফের নেতৃত্বে সাব্বির, বিপ্লব, সিয়াম, রাসেলসহ একটি দল তার মালিকানাধীন পঞ্চবটি এমদেদিয়া রোলিং মিলে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর করেন। সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে রোলিং মিল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তারা দুপক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com