বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন (বিসিভিওএ)-এর প্রতিবাদলিপি
নারায়ণগঞ্জের একটি অনলাইন নিউজ মিডিয়ায় গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত "চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য শীতলক্ষ্যা নদী, চাঁদার দাবিতে ১০ পণ্যবাহী জাহাজ আটকা" শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটিতে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন (বিসিভিওএ)-এর নাম জড়িয়ে চাদাবাজির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ওনিন্দা জানাই। সংবাদটি তথ্যভিত্তিহীন এবং আমাদের সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে আমরা মনে করি।
পণ্যবাহী লাইটার জাহাজের ছাড়পত্র যাচাই একটি আইনসিদ্ধ ও নীতিমালা-নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। একে চাঁদাবাজির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জাহাজ শাখা কর্তৃক ৩০ আশ্বিন ১৪৩১/১৫ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন, অর্থাৎ "নৌ পরিবহন অধিদপ্তর হতে অনুমতিপ্রাপ্ত লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর সম‚হে পণ্য পরিবহন নীতিমালা, ২০২৪"-এর ধারা ৭.১ অনুযায়ী, বিডবিøউটিসিসি কর্তৃক বরাদ্দ/ ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো লাইটার জাহাজ বাংলাদেশের কোনো সমুদ্রবন্দর, সমুদ্র উপক‚লীয় নদীবন্দর, নদীর উভয় তীরে অবস্থিত জেটি অথবা সমুদ্রে নোঙর করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবে না। সুতরাং বৈধ বরাদ্দ ও ছাড়পত্র থাকা প্রতিটি লাইটার জাহাজের জন্য একটি সরকারি নীতিগত বাধ্যবাধকতা। ছাড়পত্র যাচাই-বাছাই এই বিধানেরই প্রতিফলন। এটিকে "চাঁদা" হিসেবে চিত্রায়িত করা আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে অজ্ঞতা, অথবা ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস।
উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র আমাদের সংগঠনভুক্ত যে সকল জাহাজগুলো বিডবিøউটিসিসি'র ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিত চুরি করে পণ্য পরিবহন করে, সে সব জাহাজের বৈধতা ও ছাড়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই এরপর সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিকপক্ষকে ভবিষ্যতে বিডবিøউটিসিসি'র ছাড়পত্র ব্যতিত কোন পণ্য পরিবহন করবেন না মর্মে অঙ্গিকারনামা প্রদান সাপেক্ষে তাদের জাহাজ ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অতএব, তথ্য প্রমান যাচাই ছাড়া চুরি করে অবৈধভাবে পণ্য পরিবহনে জড়িতদের পক্ষের স্বার্থে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা কোনভাবেই সমিচীন নয়। আরো উল্লেখ্য যে, জিকু খানের নামের সাথে বিসিভোয়া'র নাম ও কার্যক্রমকে একইসূত্রে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগত ভাবে অসত্য। বিসিভোয়ার পক্ষ থেকে ছাড়পত্র যাচাই এর দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারীভাবে নিবন্ধিত ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নির্ধারিত দায়িত্বের আওতায় প্রদান করা হয়েছে। জিকু খানের সাথে সংবাদ প্রকাশকের কোন ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় কোন স্বার্থ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তার নামের সাথে বিসিভিওএ'কে জুরে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং বিভ্রান্তিকর।
এছাড়া সংবাদে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অজ্ঞাতনামা "একাধিক শ্রমিক"-এর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, যার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। যাঁদের নাম সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। নৌ-থানার ওসি স্বয়ং জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অর্থাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই "চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য" শিরোনামে একটি পুরো নদীপথকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। সংবাদে বিসিভিওএ-এর বৈধ কার্যক্রম এবং অন্যদের সম্ভাব্য অনিয়মকে এক করে ফেলা হয়েছে।
বিসিভিওএ একটি নিবন্ধিত ও আইন মান্যকারী সংগঠন। চাঁদাবাজি বা যেকোনো বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমরা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করি। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক বা বেআইনি কাজ করলে, প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে আমরা নিজেরাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
এছাড়া ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমাদের সংগঠনের সুনাম নষ্ট করা মানহানিকর এবং আইনত দÐনীয়। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে- তারা দুঃখ প্রকাশ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন