প্রধান খবর

জাতীয় পার্টির লুকোচুরি

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে জাতীয় পার্টি দলটি বেশ চাপের মুখে পড়ে। তবে এই দলটি নিজে থেকে লেজ গুটিয়ে নিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেভাবে দলটি প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। আবার অনেকে নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকে তাদের নাম সরিয়ে নিয়েছেন। তবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তবর্তকালীন সরকার বিদায় নিলেও জাতীয় পার্টি দলটির নেতাকর্মীরা ছিল একেবারে নিষ্ক্রিয়। এমনকি রাজনীতিক কোন কার্যক্রমে তাদের দেখা মিলেনা। অথচ এক সময় নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি আসনে ছিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের একচ্ছত্র দাপট। 
সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সালাউদ্দিন খোকা মনোনয়ন পত্র দাখিল করেও শেষ সময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এতে নানা প্রশ্ন উঠে-প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ে নাকি সমঝোতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তা নিয়ে চারদিকে নানা আলোচনা হয়েছে। 
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এনেছে এবং অন্তবর্তকালীন সরকার বিদায় নিয়েছে। তবুও জাতীয় পার্টি দলটির কার্যক্রম দেখা যাচ্ছেনা। রাষ্ট্রীয় কোন অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছেনা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ী অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। 
জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন ছিল জাতীয় পার্টির দখলে। এই আসনে ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। পরে তার মৃত্যু হলে ২০১৪ সালে উপ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যের হাল ধরেন। এরপর থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ সেই আসনে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর জাতিয় পার্টি একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। দলীয় কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়না। নেই কোন দলীয় কার্যালয়। 
এছাড়া ২০১৪ সালে দ্বশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির নেতা লিয়াকত হোসেন খোকা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে টানা দুই মেয়াতে তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে অবশ্য ২০২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। তবুও সেই আসনে জাতীয় পার্টির দাপট কমে যায়নি। অথচ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এখন সেই জাতিয় পার্টি একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নেই কোন দলীয় কার্যক্রম। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফলে তারা অনেকে রয়েছেন আত্মগোপনে। কেউ কেউ আবার পালিয়ে অন্যত্র গিয়ে অবস্থান করছেন। ফলে দলটি সাংগঠনিক দিক দিয়ে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com