প্রধান খবর

মাদক নিয়ে হার্ডলাইনে জনপ্রতিনিধিরা

মরন নেশা মাদক নিয়ে রীতিমত অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সংসদ সদস্যরা নানা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ মন্তব্য করেছেন, ‘ মাদকের মামলায় ১০ দিন জেল খেটে মাদক ব্যবসায়ীরা বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যবসা আরও বেড়ে যায়।’ তাদের বিরুদ্ধে স্ট্রিক্ট হওয়ার কথা জানান এই সংসদ সদস্য। একই সভায় ফতুল্লার মাদক স্পটের তথ্য প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক নিয়ে বিগত সময়ে সংসদ সদস্যরা নানা বক্তব্য দিলেও বাস্তবে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে সংসদ সদস্যদের এবারের ঘোষণাকে রীতিমত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, “এটা আমাদের জন্য আসলে খুবই লজ্জার বিষয়। উনি (তারেক রহমান) সংখ্যা বিশ বলেছেন কিন্তু এসপি মহোদয় এবং আরও দুই-একজন বলেছেন এই সংখ্যা আসলে আরো বেশি। এই মাদক দ‚র করা খুবই জরুরি। মাদক থেকে আরো অনেক অপকর্ম হচ্ছে। কেউ মাদক সেবন করছে, মাদক সেবন করার পরেও আরো চারটা অপরাধ করছে। ওটা কিন্তু মাদক দিয়ে শুরু। যেভাবেই হোক একটা সমাধানের আওতায় আনা উচিত।”
মাদকের মামলায় ১০ দিন জেল খেটে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যবসা আরও বেড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, “এদের ক্ষেত্রে আরেকটু স্ট্রিক্ট হতে হবে। আমি বুঝি- প্রত্যেকের বের (জামিন) হবার একটা আইন আছে। তারপরেও এই মাদক ব্যবসা ও সেবন বন্ধ করা গেলে অনেকগুলো পরিবার সেভ হবে। দুই-একটা এক্সাম্পল তৈরি করলে বাকিরাও ভয় পাবে।”
একই সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “মাদকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ র‌্যাব এবং বিজিবিসহ একটি সমন্বিত অভিযান করা যায় কিনা। ফতুল্লা অঞ্চলটি মাদকে জর্জরিত। আমি স্পেসিফিক কয়েকটি জায়গার নাম বলতে চাই- লালপুর, তল্লা, কাশিপুরের নরসিংপুর, কুতুবপুরের রসুলপুর, মুন্সিবাগ, রামারবাগ ও লাকিবাজার। আমরা কালকে দেখেছি যে গত তিনদিন আগে মাদকের কারণে ছুরিকাঘাত করছে, গতকাল মার্ডার হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাগুলোর জায়গার নাম বললাম। এই এলাকাগুলো ব্যাপক মাদক এবং কিশোর গ্যাং-এ জর্জরিত।”
এমপি বলেন, “বিশেষ করে এসব এলাকাগুলা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল। এই এলাকার শ্রমিকেরা বেতন নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং-এর দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।”এসব সামাজিক সমস্যা সমাধানে বিশেষ অভিযান চালানোর বিষয়েও তাগিদ দেন তিনি।
অন্যদিকে আরেক সংসদ সদস্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। হকার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, “২০০১ সালে হকারদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা আমরা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। সেই জায়গায় যারা বরাদ্দ পেয়েছিল তারা আসলেই এখনো আছে কিনা, না থাকলে তাদেরকে কেন আমরা রাখবো, এই বিষয়ে সমাধানে আসতে হবে। শুধু হকার সমস্যা না, এখানে চাঁদাবাজিও চলছে। হকাররা যারা বসে, তারা এই চাঁদাটা দিয়েই বসে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে কেউ না কেউ আছে তারা সাপোর্ট আর নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই গ্রুপটাকে খুঁজে বের করতে হবে।”

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com