প্রধান খবর

আজমেরীর সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে বাড়িতে তালা দেয় পুলিশ!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শহীদনগর এলাকায় আওয়ামী লীগ দোষর ও আজমেরী বাহিনীর সন্ত্রাসী আলী হোসেন মেম্বারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করেও পুলিশের সহায়তা পাওয়া যায়নি। উল্টো প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে বিবাদীরা ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া সুলতানার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় পুলিশের এসব অসাধু কর্মকর্তারা আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়ে এ ধরনের কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় গত ২৬ মার্চ ও ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগী নারী রাবেয়া সুলতানা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া আদালতে চলমান মামলায় আলী হোসেনকে ওই বাড়িতে প্রবেশ ও দখলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

বিবাদীরা হলেন- আওয়ামী লীগ দোষর আলী হোসেন মেম্বার, তার স্ত্রী পান্না আক্তার, তার দুই ছেলে সিফাত ও শিশির।

লিখিত অভিযোগে রাবেয়া সুলতানা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ দোষর সন্ত্রাসী আলী হোসেন মেম্বার ও তার স্ত্রী পান্না আক্তারের ছত্রছায়ায় তাদের দুই ছেলে সিফাত ও শিশির ওই এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আছে। তারা আমাদের বাড়ি-ঘর অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছে। সেই লক্ষ্যে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে মারধর করেছে।

তিনি আরও বলেন, শহরের শহীদনগর এলাকায় আমার শ্বশুর মরহুম হাজী মো. সুজুর মিয়ার নামীয় সম্পত্তি ও বাড়িতে স্বামী-সন্তান সহ অন্য আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। এই সম্পত্তি নিয়ে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে, যা স্বাক্ষী পর্যায়ে আছে।

চলমান এই মামলায় বিবাদীগন সুবিধা করতে না পেরে গত ৩ মার্চ বেলা ৩ টায় আমাদের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমি কোন উপায় অন্ত না পেয়ে তাৎক্ষনিক ৯৯৯ এ কল দিলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোন আইনগত সহায়তা প্রদান করেনি, বরং আলী হোসেন মেম্বার ও তার সন্ত্রাসী পুত্রদের সহায়তায় আমাদেরকে বেআইনীভাবে হেনস্তা করে। উক্ত আলী হোসেন মেম্বার অবৈধ অর্থ ব্যয় করে মিথ্যা তথ্য দিয়া আমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পত্রিকায় মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ প্রচার করেন। সন্ত্রাসী আলী হোসেন মেম্বার ও তার স্ত্রী পান্না আক্তারের ভাড়াটিয়া বলে হেলাল উদ্দীন আমাদের ৩য় তলা বসত বাড়ীটিকে তার স্কুল বলে দাবী করেন।

এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কোন প্রকার সহায়তা না পেয়ে আমি ও আমার মেয়ে স্বশরীরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে আইনত সহায়তা চাই। তবে পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল ও এসআই বিল্লাল এর নিদের্শনায় আমার অভিযোগ গ্রহন না করে বিনা তদন্তে অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় আমাকে ও আমার নাবালিকা কন্যাকে থানায় আটকে রাখে। এ সময় ওসি সাহেবের নিদের্শনায় আমার নাবালিকা কন্যাকে তৎক্ষনিক মুক্তি দেয়া হয়।

আর আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং- ২৪/২৬, তাং ২২/০২/২০২৬ মূলে 'আদালতে প্রেরণ করিলে আদালত সকল বিষয় বিবেচনা করে আমাকে জামিন প্রদান করেন। আমাকে ও আমার নাবালিকা কন্যাকে থানা হেফাজতে আটক রাখাবস্থায় সন্ত্রাসী বাহিনী আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে আমাদের বসতবাড়ীতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাড়ীতে আমার নাবালক পুত্র রাজিন, ননদের নাবালিকা কন্যা স‚চী ও সাবালিকা সুপ্তি এবং আমার বয়জেষ্ঠ শাশুরী মমতাজ বেগম অবস্থান করছিলেন। সন্ত্রাসীরা এ সময় আমার নাবালক পুত্রকে মারধর করে, ননদের কন্যাদের শ্লীলতাহানী সহ বয়জেষ্ঠ শাশুরীকেও শারীরিকভাবে মারধর করে। এছাড়াও বাসায় স্ট্রোকে আক্রান্ত আমার ননদের স্বামী শাহআলম-কে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়ীর নীচ তলা ও উপরের তলার আসবাবপত্র তছনছ করে এবং ম‚ল্যমান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়া যান।

এতেই খান্ত হয়নি। আসামিরা পুলিশকে দিয়ে বাড়ির মূল ফটক সহ ১২টি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়ে যায়। আর আমার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তৎকালীন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আমাদের বসত ঘরে এভাবে তালা দিয়েছে, যা এখন থানা হেফাজতে রয়েছে। অথচ থানা কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কোন প্রকার জব্দ তালিকা কিংবা লিখিত রশিদ প্রদান করেনি।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রাবেয়া সুলতানা বলেন, তৎকালীন ওসি হালিম, পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল ও এসআই বিল্লাল আসামিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে আমার বসত বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আমাদের বের করে দিয়েছে। এরপর থেকে মানবেতন জীবন যাপন করছি। এ ঘটনায় বিচার-শালিস হলে বিএনপি নেতা টিপু আমাকে শাসিয়ে চুপ করতে বলে, বিএনপির আরেক নেতা জাহাঙ্গীর ওদের পক্ষ নিয়ে কথা বলে। এভাবে নানা টালবাহানা করে বিএনপি নেতা ও পুলিশ মিলে আমাকে হয়রানি করছে ও বাড়ি দখল করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আজমেরী ওসমানের সন্ত্রাসী বাহিনী আলী হোসেন মেম্বার অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার শ্বশুরের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে সেই কাগজ দিয়ে ওরা কি করেছে তা জানা নেই। আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে এখন আলী হোসেন মেম্বার নানাভাবে বাড়িটি দখল করার চেষ্টা করছে। অথচ নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত দেওয়ানী মোকাদ্দমা ১২/২৫ এর আলোকে বিবাদী আলী হোসেনকে এই জমিতে প্রবেশ, আকার-আকৃতি পরিবর্তন ও দখলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

অভিযুক্ত সদর মডেল থানার পরিদর্শক জামাল উদ্দিন সম্প্রতি সোনারগাঁ থানায় যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশকণ্ঠকে বলেন, আমি ওই ঘটনায় তালা দেইনি। তৎকালীন ওসি আব্দুল হালিম দাড়িয়ে থেকে তালা দিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন। এছাড়া অন্য প্রশ্নের উত্তর বেশ কৌশলে এড়িয়ে যায় এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর মান্নান নানা অজুহাত দেখিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিল আলী হোসেন মেম্বার। তার সাথে আজমেরী ওসমান ও সহ ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সন্ত্রাসী আলী হোসেন মেম্বার ভোল পাল্টে বিএনপি বিভিন্ন নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করছেন, এতে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই আলী হোসেন।

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com